বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ June ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বকেয়ার দাবিতে অন্দোলনকারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে ইপিজেডের সামনে কুনতুং অ্যাপারেলস লিমিটেড (ফ্যাশন সিটি) পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা সড়কে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করলে আনসার ও পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শ্রমিকরা।

জানা গেছে, মালিকপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকাল সাতটায় ইপিজেডের প্রধান গেটের সামনে অবস্থান নেয় চাকুরিচ্যুৎ দুই শতাধিক শ্রমিক। এসময় ইপিজেডে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল সড়কে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে। আটটার দিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেল) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনরত শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। শ্রমিকরা তাদের কথা মানেনি। নয়টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সারানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার গুলি ছোড়ে। এতে শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়। অন্তত দুই ঘন্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর এগারোটার দিকে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।  

রহিমা নামে এক শ্রমিক বলেন, ছয় বছর ওই কারখানায় কাজ করেছি। বকেয়া পাওনা এখনো পাইনি। একই কথা বলেন, রিনা আক্তার, বিউটি ও তানিয়া। প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় দুই লাখ টাকা করে বকেয়া জমেছে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করছেন না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ করে। পুলিশ তাদের শান্ত করতে চাইলে ইট-পাটকেল ছুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ বার রাউন্ড শর্টগান গুলি ও এগারোটি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বললেও শ্রমিকদের সমস্যা সমাধার বিষয়ে কিছু জানায়নি।

বেপজার জিএম আহসান কবির জানান, কারখানা বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছে কারখানা মালিক। তবে কবে পাওনা পরিশোধ করবে তার সময় নির্ধারণ করেনি।   


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১