বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২১ May ২০২১

ধান ভাঙ্গার মেশিন যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলতি মৌসুমের বোরো ধান সর্বত্র কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসছে। স্থানীয় কৃষকেরা এখন নতুন ধান শুকিয়ে গোলায় তুলার কাজ করছেন। সেইসাথে শুকানো ধান ভাঙ্গতে এখন ব্যস্ত গৃহস্থ ও কৃষকরা।
এদিকে নতুন ধানকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তির কল্যাণে ধান ভাঙ্গার মেশিন চলে যাচ্ছে মানুষের বাড়ি বাড়ি । গ্রামাঞ্চলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরী করা ধান ভাঙ্গার মেশিন এখন সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । আধুনিক পদ্ধতি চালু হওয়ায় ধান ভাঙ্গানুর জন্য গৃহস্থদের হাট বাজার কিংবা মেইল বাড়িতে এখন আর যেতে হচ্ছে না। ঘরে বসেই পাচ্ছে ধান ভাঙ্গার সুবিধে। এতে করে কৃষক ও গ্রহস্থের সময় ও শারীরক কষ্ট থেকে রক্ষা পচ্ছেন তারা। পাশাপাশি ধান ভাঙ্গতে লোডশেডিং কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়তে হচ্ছে গৃহস্থদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ধাতুর পহেলা, মোগড়া, কর্ণেলবাজার,মনিয়ন্দসহ বিভিন্ন এলাকায় যুবকরা ধান ভাঙ্গার মেশিন তৈরি করে মৌসুমি ধান ভাঙ্গার কাজ করছেন। গ্রামের বেকার যুবকরা একটি পাওয়ার ট্রিলার মেশিনের সাথে ১টি হলার যোগ করে নিজেদের উদ্যোগে ধান ভাঙ্গার মেশিন তৈরী করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ভাঙ্গার কাজ করছেন।

এক সময় মানুষ তাদের উৎপাদিত শুকনো ধান ভাঙ্গতে অনেক কষ্ট করত। মেইল বাড়িতে গিয়ে ধান ভাঙ্গতে আসা যাওয়াসহ গৃহস্থদের অনেক পরিশ্রম হয়। এখন ধান কাটা মাড়াই ও শুকনোর পর চাউল করার জন্য ঘরের পুরুষের উপর নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে না। যুবকরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে ধান ভাঙ্গার কাজ করায় গৃহবধুরা যেন মহাখুশি।

এ পেশায় নিয়োজিত উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা গ্রামের মো. হাফেজ উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত ৩০-৪০ মন ধান ভাঙ্গানো হয়। বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শেষে পর্যায়ে চলছে। গৃহস্থরা এখন ধান শুকাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। সেইসাথে এখন চলছে ধান ভাঙ্গার কাজও। যাদের ধান ভাঙ্গার প্রয়োজন তারা যোগাযোগ করলে বাড়িতে গিয়ে ভাঙ্গার কাজ করা হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ভাঙ্গার প্রচুর চাহিদা আছে। তাছাড়া ধান ভাঙ্গার মেশিনের শব্দশুনে আশপাশের লোকজন আসেন বলে জানায়। তিনি আরো বলেন প্রতি মন ধান ৫০ টাকায় ভাঙ্গনো হয় । খরচ বাদে দৈনিক ১ হাজার টাকার উপর আয় হচ্ছে বলে জানায়।

মো. ফরিদ মিয়া বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে বেকার ছিলাম। কাজকার্ম ছিল না। তাই একটি ধান ভাঙ্গার মেশিন তৈরী করা হয়। এই মৌসুমে ধান ভাঙ্গার কাজ ভালই হচ্ছে বলে জানায়।

সেবা গ্রহনকারী গৃহিনী ফামেতা বেগম বলেন, এই মেশিনের মাধ্যমে বাড়িতে ধান ভাঙ্গতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে বস্তায় করে পরিবহনের মাধ্যমে মেইল বাড়িতে নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হত।

মো. মোবারক হোসেন বলেন, এই মেশিনে ধান ভাঙ্গতে খরচ সামান্য বেশী হলেও কোন প্রকার গৃহস্থের কষ্ট নেই। পরিশ্রম ছাড়া ঘরে বসেই ধান ভাঙ্গতে পেরে খুবই খুশি। কারণ মেইল বাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে ধান ভাঙ্গতে হয়। এখন অনেক সুবিধা হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১