আপডেট : ১৬ May ২০২১
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন ও বান্ধবীর বাসায় ড্যান্স পার্টিতে অতিরিক্ত মদপানে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মা হত্যায় ছেলের দায়ের করা মামলায় বাবা ও তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বান্ধবী টুম্পাকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার আমির পাগলার বাড়ির ভাড়াটিয়া আদমজী মুনলাক্স পোশাক কারখানার শ্রমিক রুমা (১৭) ঈদের দিনে বেড়াতে যায় পাঠানটুলী বান্ধবী টুম্পার বাসায়। রাতে টুম্পা বাসায় ড্যান্স পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। নাচ ও অতিরিক্ত মদপানে রুমা অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার ভোরে তাকে সিএনজি করে শহরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে য়ায় টুম্মা। তখন হাসপতালের কর্মরত ডাক্তার জহিরুল ইসলাম রুমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় টুম্পার কাথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সিএনজি চালক কৌশলে লাশসহ টুম্পাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টুম্পাকে আটক করে। নিহত রুমা কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার গনেশপুর এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে। আর আটক টুম্পা পটুয়াখালী জেলা সদরের বল্লভপুর কালুকাপুর গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে। সে পাঠানটুলী এলাকা ভাড়া থেকে পোশাক করাখানায় কাজ করে। নিহতের মা রহিমা জানান, ঈদের আগে বেতন বোনাস পেয়ে রুমা বাসায় না এসে তার বন্ধবী টুম্পার বাসায় চলে যায়। ঈদের আগের দিন রাতে বাসায় আসার পর কেনাকাটার জন্য টাকা চাইলে বলে সব টাকা টুম্পার কাছে রয়েছে। টাকা আনতে ঈদের দিন আবার সে টুম্পার বাসায় যায়। ফিরে না আসায় সর্বশেষ রাত সাড়ে সাতটার দিকে মোবাইল ফোনে রুমার সঙ্গে কথা হয়। তখন রুমা কান্না করে বলে মা আমারে বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলছে। এর পর থেকে বহু বার চেষ্টা করেও আর মোবাইলে যোগাযোগ করা যায়নি। সকালে টুম্পা ফোন করে জানায়, রুমা মদ খেয়ে মরে গেছে। তার লাশ হাসপাতালে আছে। পরিকল্পিতভাবে রুমাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রহিমার। অপর দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব নিমাকাশারী এলাকায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে স্বামী। পরকীয়া সন্দেহের জের ধরে কলহের কারণে ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত তিনটা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরের দরজায় বাইরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী। মাকে হত্যা করায় বাবা নূরুল আমিন সবুজকে আসামি করে ছেলে মিলন (৩০) হত্যা মামলা করে। পুলিশ শনিবার রাতে সানারপাড় বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে নূরুল আমিন সবুজকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম- বিবি ফাতেমা (৫০)। তার স্বামী নূরুল আমিন সবুজ (৫৫) নোয়াখালী জেলা সদরের শ্রীপুর এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে। তারা পুর্ব নিমাকাশারীর ১১৪/বি ৩ নম্বর সড়কের মো: শাহীন মিয়ার ফিরোজ ভিলার নিচ তলার ভাড়াটি। নিহতের ছেলে মো: মিলন (৩০) জানায়, ভোর পাঁচটার দিকে মার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি বিছানায় রক্তাক্ত মারদেহ পড়ে আছে। বাবা ঘরে নেই। তখন পুলিশকে খবর দেই। বাবাই মাকে হত্যা করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামী নূরুল আমিন সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্ত্রী তাকে অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয় জড়িয়েছে সন্দেহ করায় প্রায় সময় কলহ হত। এই কারণেই স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে সবুজ স্বীকার করেছে। আর পাঠানটুলীর ঘটনায় ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বান্ধবী টুম্পাকে আটক করা হয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১