বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৮ March ২০২১

জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ হবে: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের সুন্দর জীবন চেয়েছিলেন। সহায়-সম্বলহীন, অসহায়, বঞ্চিত ভাগ্যহারা-হতভাগ্যদের সহায় হতে চেয়েছিলেন। তিনি বলতেন, দেশের মানুষ যদি অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা পায় তাহলেই তার জীবনটা সার্থক। তিনি দেশ স্বাধীন করেছেন, এদেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। গতকাল বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২১ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দাদা-দাদি বাবাকে খোকা বলে ডাকতেন। তাদের কাছে খোকা এতই প্রিয় ছিল যে খোকার কোনো আবদার তারা কখনো না করেননি। মানুষকে সবকিছু বিলিয়ে দেওয়ার যে একটা মানসিকতা ছিল, এতে কখনো তার বাবা-মা আমার বাবাকে বাধা দেন নাই। বরং উৎসাহ দিয়েছেন। তার পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের দৃঢ়তায় ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য আমরা সব রকম পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সমস্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে রেখে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত সমৃদ্ধ এবং মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে। কেউ না খেয়ে থাকবে না, কেউ গৃহহীন থাকবে না। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য স্বপ্ন পূরণ হবে।

জাতির পিতা টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। এই সবুজ শ্যামল মাটিতে, এই জায়গারই ধুলোমাটি মেখে তিনি বড় হয়েছেন। একদিকে মধুমতি নদী, আরেক দিকে পায়রা নদী। তাই তো ছোটবেলা থেকে তার জীবনে বড় হওয়ার ঘটনাগুলো দেখলে আমরা দেখতে পায়, তিনি কিন্তু তখন থেকেই তার ভেতরে মানুষের ও দেশের প্রতি একটা ভালোবাসা ছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়ায় সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় আফসোস করে বলেন, দূরে আছি- এটা ঠিক। কিন্তু আমার মনটা টুঙ্গিপাড়ার মাটিতেই পড়ে আছে। খুব তাড়াতাড়িই টুঙ্গিপাড়ার আসব।

আমার বাবা একটা চিন্তাই করেছিলেন, কীভাবে এদেশের মানুষের জীবনটাকে উন্নত করা যায়। মানুষের জীবনটাকে সুন্দর করে গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য। আমি তার লেখায় এবং সব সময় তার কাছ থেকে শুনেছি- এদেশের ভাগ্যহারা-হতভাগ্য মানুষদের জীবনটা কীভাবে সুন্দর করবেন সে চিন্তাটাই তিনি করতেন। তার মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মানুষকে সাহায্য করার একটা মানসিকতা ছিল। স্কুলজীবনে একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে মুষ্টিভিক্ষা করে ধান-চাল সংগ্রহ করে সেগুলি দরিদ্র ছেলেমেয়েদের কাছে পৌঁছে দিতেন। তাদের খাবার, বই ও কাপড় কেনার ব্যবস্থা করে দিতেন।

শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ছোট্ট সোনা বন্ধুরা তোমরা বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী বই পড়ে দেখবে অনেক সময় কেউ কেউ আমার দাদাকে বলেছেন আপনার ছেলে কী করছেন, আপনার ছেলে তো জেলে যাবে। আমার দাদার কথা ছিল, আমার ছেলে তো দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে, সে যেটা করেছে ভালোর জন্য করছে। এখন ঘরের ভাত খায়- না হয় জেলের ভাত খাবে। কিন্তু  সে তো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।

দেশ স্বাধীন করার পরে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে শিশু অধিকার আইন করেন। শিশুদের ভালো দেখাশোনা যাতে হয় সেদিকে লক্ষ রেখে তিনি শিশুদের জন্য শিশু কেয়ার অ্যান্ড প্রটেকশন সেন্টার নামে একটা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন। কারণ আমাদের দেশে যুদ্ধে অনেক শিশু পিতা-মাতা হারিয়েছে, আবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়া মা-বোনদের অনেক শিশুর জন্ম নেয়। সেই শিশুদের প্রটেকশনের ব্যবস্থা এবং তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও তিনি শুরু করেছিলেন। তিনি সব সময় এটাই ভাবতেন যে- শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুদের তিনি এত ভালোবাসতেন বলেই আমরা জাতির পিতার জন্মদিনটাকে জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছি।

আমি জানি করোনার কারণে স্কুল বন্ধ। ছোট্ট সোনামণিরা, তোমরা ঘরে বসে পড়াশোনা করার পাশাপাশি  খেলাধুলাও করবে। কারণ খেলাধুলা, সংস্কৃতির চর্চা এগুলো একান্তভাবে অপরিহার্য। ছোট্ট সোনামণিরা তোমরা নিয়মশৃঙ্খলা মানা অভিভাবকদের ও শিক্ষকদের কথা শোনা এবং তাদের কথা মেনে চলবে। কারণ এগুলো খুব দরকার।

উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি এখানে বসে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সব রকম পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি এবং সব নীতিমালা প্রণয়ন করে রেখে যাচ্ছি। আমরা একসময় থাকব না। কিন্তু ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা যেন এই নীতিগুলো অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে পারে সেটাই আমরা চাই। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১