বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৯ February ২০২১

বাদুড়ের কিচির মিচির শব্দে মুখরিত দেবগ্রাম


গ্রীষ্ম, বর্ষা,হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বারো মাস জুড়ে গাছে গাছে বাসা বেঁধে নির্বিঘ্নে বসবাস করছে কয়েক হাজার বাদুড় পাখি। নিরাপদ আশ্রয় আর মানুষের ভালোবাসায় প্রায় দেড়শ বছরের উপর ধরে ওইসব বাদুড় পুকুর পাড়ের গাছে গাছে ও বাড়ির চারপাশ দখল করে বসবাস করছে। তাদের কিচিরমিচির শব্দ আর কোলাহলে ভোরে ঘুম ভাঙে এলাকার লোকদের। ভোরে বাড়ির গাছে গাছে তাদের কিচির-মিছির শব্দ জানান দেয় তাদের সরব উপস্থিতি। দিনের বেলায় কোন সারাশব্দ থাকে না। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সবুজ-শ্যামল, ছায়া-সুনিবিড় দেবগ্রাম এলাকায়। ওই এলাকার মুন্সিবাড়ি পুকুর পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মধ্যে ওইসব বাদুড় বসবাস করছে। তবে এলাকাবাসীও গভীর মমতা দিয়ে আগলে রেখেছে বাদুড়গুলোকে। বাদুড়গুলো এক সঙ্গে গাছের ডালে ডালে ঝুলে থাকার দৃশ্য দেখার জন্য মানুষের কৌতূহলও অনেক। প্রকৃতির অপরূপ খেয়ালে স্থানীয় লোকদের কাছেও শতবৎসরের উপর ধরে এখানে বাদুড় থাকার বিষয়টি বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গিয়ে দেখা যায় রাস্তা সংলগ্ন মুন্সিবাড়ি পুকুরের চার পাড়সহ বাড়ির আশপাশের বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছের মধ্যে কয়েক হাজার বাদুড় ঝুলে আছে। ভোরে তাদের কিচির-মিছির শব্দে মুখরিত করে তুললেও দিনের বেলায় কোন সারাশব্দ থাকে না। বাদুড়ের কিচির মিচির শব্দে মুখরিত করে তুললে ও বাড়ি আশপাশের লোকদের বিরক্ত নেই তা নিয়েই আত্মতৃপ্ত রয়েছেন। সারাদিন মানুষ যখন ব্যস্ত তখন বাদুড়রা থাকে ঘুমন্ত। আবার সন্ধ্যায় মানুষ যখন ঘরে ফিরে আসে বাদুড়রা তখন বাইরে বেরিয়ে যায়। ভোর রাতে আবার ফিরে আসে তাদের গন্তব্যে। তবে বাদুড়েরা কোন বাসা তৈরি করতে হয় না। তাই তারা শাখাওয়ালা উঁচু গাছ হলে তারা স্বাচ্ছন্দে ঝুলে থাকেন। ঝুলন্ত অবস্থায়ই তারা ঘুমিয়ে নেয়। বাদুড়রা ডিম পাড়ে না, বাচ্ছা প্রসব করে। জন্মের পরপরই তারা মায়ের বুকে আঁকড়ে ধরে আশ্রয় নেয়।

এদিকে বাড়ির লোকজনরাও যেন পাখিপ্রেমিক। বাড়ির কেউ পাখি শিকার করে না, কাউকে করতেও দেয় না। দিনের বেলায় বাড়ির সামনে পুকুর পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছে ঝুলছে কয়েক হাজার বাদুড়।

দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পুকুর পাড় সংলগ্ন বাড়ির মালিক শেখ মো. মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে জানান, এখানে বাদুড়েরর বসবাস দেড়শ বছরের উপরে হবে। বিরল এ পাখির সাথে এ বাড়ির মানুষের বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে যেন আত্মার অন্তর মিল রয়েছে। প্রাকৃতিক কত ঝড়-ঝাপটা গেছে তবু ওরা টিকে আছে এ বাড়ির গাছেই। তারা যে ভাবে গাছের ডালায় ঝুলে থাকলেও কোনো ভয় বা ঝুঁকি নেই। বাদুড়গুলোকে আমরা আগলে রেখেছি। গাছের ফলমূল আমাদের আর হয় না।

তিনি আরো বলেন বাদুড় অবলা প্রাণী। এদের জীবনযাত্রা বড়ই উদ্ভট। নিজের খাদ্যের অভাব মেটানো ছাড়া কোন ক্ষতি করে না। সন্ধ্যার আধাঁর নেমে আসার সাথে সাথে ওরা দল বেঁধে ছুটে যায় বিভিন্ন দিকে। রাতে খাবার সন্ধানে গেলেও ভোর বেলা অন্য কোথাও না গিয়ে সোজা চলে আসে বাদুরের নিরাপদ আবাসস্থল ফিরে আসেন। এভাবে চলছে এখানে যুগের পর যুগ বাদুড়দের জীবন।

যুবলীগ নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মমিন বাবুল বাংলাদেশের খবরকে বলেন তিনি যখন ছোট ছিলেন তার বাবার কাছ থেকে শুনেছেন এখানে বাদুড় এভাবে বসবাস করছে। এখন পযর্ন্ত বাদুড়গুলো নিরাপদে নিশ্চিন্তে রয়েছে। তবে আমাদের মৌসুমি ফল ফলাদি অনেক ক্ষতি করছে বলে জানায়। পথচারী মোহাম্মদ আলী বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য পাওয়া বড় কঠিন। বাদুড়ের কল-কাকলিতে মুখরিত এই শব্দ খুবই আনন্দদায়ক।

স্থানীয় সাংবাদিক দুলাল ঘোষ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এখানে বাদুড়ের বসবাস অন্তত দেড়শ বছরের উপরে হবে বলে জানায়। তিনি বলেন তার বাবা যখন দেবগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন তখন তার বাবা দাদার কাছ থেকে এখানে বাদুড়ের বসবাসের কথা শুনেছেন।

বাদুড় নিজের চাহিদামত বাসস্থান নির্বাচন করছে। উপজেলার মধ্যে আরো অনেক গ্রাম আছে, বাড়ি আছে। কিন্তু সেখানে ওরা যায় না। ঘুরে ফিরে আবার এখানেই চলে আসে। বাদুড়রা দীর্ঘ বছরধরে পুকুর পাড়ের গাছে বসবাস করছে। ফল ফলাদির কিছু ক্ষতি করলেও বড় ধরনের কোন ক্ষতি করছে না।

গৃহিনী আলেয়া বেগম বলেন, ছোট বেলা থেকে এখানে বাদুড় দেখে আসছি। বাদুরের কিচির মিচির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙ্গে। শব্দ শুনতে শুনতে এখন আর খারাপ লাগে না।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. কামাল বাশার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এখানে এদের প্রচলিত নাম হচ্ছে কলা বাদুড়। এদের প্রধান খাদ্য পাকা আম, পেঁয়ারা কলাসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের মধু। এরা দিনের বেলায় বাদুড়রা নিষ্কিয় থাকে, রাতের বেলায় সক্রিয় হয়। এরা মূলত বড় বট, কড়–ই, মেহগনি তেতুলসহ বিভিন্ন প্রজাতীয় বড় গাছে আশ্রয়স্থল তৈরি করে। আশ্রয়স্থল তৈরিকারী গাছগুলো পানির সন্নিকটে থাকে। তবে এখানে নিরাপদে থাকতে তাদের বাড়নি নজর রয়েছে বলে জানায়।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১