বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ January ২০২১

আখাউড়া পৌর নির্বাচন: বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে নেই একাংশের শীর্ষ নেতারা


প্রতীক পাওয়ার পর জমে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচন । এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত একক প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা এলাকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা, গণসংযোগ ও বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা শুরু করলেও এ ক্ষেত্রে অনেকটাই  বেকায়দায় রয়েছে বিএনপি। দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুটি গ্রুপ তৈরি হওয়ায় বড় একটি অংশের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যক্রমসহ পৌর নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা থেকে অনেকেটাই নিজেকে গুছিয়ে রেছেখেন। এ অবস্থায় দলে  চরম অস্থিরতা বিরাজ করায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এর মাশুল গুনতে হবে একাধিক নেতাকর্মীরা জানায়। এ নির্বাচনে বিএনপি থেকে  একক প্রার্থী মনোনীত হলেন সাবেক সহ-সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন আব্দু।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির কমিটি না থাকা ও পৌর বিএনপির  আহবায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বহিরাগত, অপরিচিত, অদক্ষ, অযোগ্য, আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকাহীন লোকজনকে আহবায়ক কমিটিতে স্থান দেওয়ায় ওই কমিটি থেকে ইতোমধ্যে  ১১ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা যুবদল, ছাত্রদলে আহবায়ক কমিটি নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করায় ক্ষোভে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যক্রম থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সহসায় সাংগঠনিক  কার্যক্রমে তারা আসছেন না। এ অবস্থায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলের বড় একটি অংশের শীর্ষ নেতা কর্মীরা বিমুখ হওয়ায় ভোটের মাঠে দিন দিন ঝিমিয়ে পড়ছে দলটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা বলেন, পৌর নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী হওয়া সত্বেও কোন্দল থাকায় এখন পযর্ন্ত  ভোটের মাঠে কোন প্রকার প্রভাব ফেলতে পারেননি। যে সমস্ত নেতারা কর্মীসমর্থক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ প্রচার প্রচারণা আর গণসংযোগে সাহসী এবং উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা পালন করতো  কোন্দলে তারা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছেন। পৌর বিএনপিসহ সহযোগি সংগঠনের  আহবায়ক কমিটি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থা তৈরী হয়। এ অবস্থা দ্রুত নিরসন করা না গেলে নির্বাচনে ভরাডুবির আশংকা করছেন বলে জানায়।

পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মো. বাহার মিয়া বলেন, ‘আমার মতো অনেক ত্যাগি নেতাকেই বর্তমান আহবায়ক কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই অন্য উপজেলার লোককে আহবায়ক করা হয়েছে। আমরা তার নেতৃত্বে থাকবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপি’র রাজনীতিকে ঘরে ঢুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এভাবে রাজনীতি করা সম্ভব না। রাজনীতিতে যে ভাবে মাইনাস করণ চলছে তাই নেতাকর্মীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।

দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা বলছেন , বিএনপি হলো বড় রাজনৈতিক দল। তাই নেতাকর্মীদের কিছু মান অভিমান থাকতে পারে । আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে যেহেতু প্রতীক ধানের শীষ তাই তারা অভিমান করে থাকতে পারবেনা। অচিরেই তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে কাজ করবেন।

তারা আরো জানায়, দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ হওয়ায় পর নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মাঠে কাজ না করলে ও গোপনে মাঠে যার যার অবস্থান থেকে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর চোখে পড়তে চান না অনেকেই। ভবিষ্যতে মামলা হামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক নেতা কৌশল অবলম্বন করে মাঠে কাজ করছেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুসলেম উদ্দিন বলেন, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ঢাকায় অবস্থান করলেও দুএকদিনের মধ্যে এলাকায় আসব। প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। ইতিমধ্যে প্রার্থীর পক্ষে নানাভাবে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১