আপডেট : ৩০ December ২০২০
ঢাকায় পানি সরবরাহ প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। পরামর্শক খাতের ব্যয় বড় অংকের দেখানোয় এটিকে যৌক্তিক বলে মনে হয়নি পরিকল্পনা কমিশনের। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল এ খাতে ব্যয় কমাতে হবে। অবশেষে চাপাচাপিতে চূড়ান্ত প্রস্তাবে কমেছে মাত্র ১ কোটি টাকা। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এ খাতে ব্যয় হবে ২২৯ কোটি টাকা।প্রকল্পের নাম ‘ঢাকা ইনভারমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই’। সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা ধরনের পরামর্শক ব্যয় যুক্ত করা হয়। এখন প্রথম সংশোধনীতে এ খাতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মতো বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল প্রকল্পে ১৭৩০ জন পরামর্শক ছিল। এর মধ্যে দেশি ১৩৭৮ এবং আন্তর্জাতিক ৩৫২ জন পরামর্শক ধরা হয়। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২৬১০ জন করা হয়। গত বছরের ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় সুপারিশ অনুযায়ী এ সংখ্যা কমিয়ে ২৪৯৬ জন করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় ১৯৭০ এবং আন্তর্জাতিক ৫২৬ জন ধরা হয়। এ জন্য ব্যয় প্রস্তাব করা হয় ২৩০ কোটি টাকা। সবশেষে সেখান থেকে এক কোটি টাকা কমিয়ে ২২৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করে এ খাতে ব্যয় প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। পিইসি সভার সুপারিশে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক খাতের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমাতে হবে। তাছাড়া কার্যক্রম শুরুর পর সুপারভিশন পরামর্শকদের জনমাস গণণা করতে হবে। ড্রয়িং, ডিজাইন ও সুপারভিশন পরামর্শক আলাদাভাবে দেখাতে হবে। প্রকল্পের প্রতিটি পরামর্শকের জন্য আগে কী পরিমাণ ব্যয় ধরা ছিল, এরইমধ্যে কোন পরামর্শক বাবদ কী পরিমাণ ব্যয় হয়েছে এবং সংশোধনী প্রস্তাবে কী পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেগুলো দুটি আলাদা ছকে পুনর্গঠিত ডিপিপিতে দেখাতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক রাখাটা এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি প্রকল্পে কোন কাজে কেন পরামর্শক লাগবে এবং সেরকম দক্ষতা এদেশে আছে কিনা সেটি পরিষ্কার করা দরকার। তা না হলে ইচ্ছেমতো পরামর্শক খাতে ব্যয় করলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় দেখা যায় সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা অবসরের পরে বিভিন্ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। তারা দায়িত্বে থাকার সময়ই এ সুযোগ তৈরি করে রেখে যান। এভাবে উত্তরাধিকার সূত্রেও অনেকে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে এখন মোট ৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৬৯৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৪৪২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং ঢাকা ওয়াসার তহবিল থেকে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মূল ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তুলনায় প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ছে ৫৫ শতাংশ। এছাড়া মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু অগ্রগতি কম হওয়ায় এখন আড়াই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, ঢাকা মহানগরীর পুরাতন ঢাকা, মতিঝিল, পুরানপল্টন, ফকিরাপুল, উত্তরা, গুলশান, বনানী, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, বাড্ডাসহ পুরো মিরপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় পানি সরবরাহ অপ্রতুল। এসব এলাকার পানি সরবরাহের মূল উৎস ভূ-গর্ভস্থ গভীর নলকূপগুলোর পানি উত্তোলন ক্ষমতা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মান প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে এবং পানি পরিশোধন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এবং ২৪ ঘণ্টা নগরবাসীর জন্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ উৎস হতে পানি ব্যবহারের জন্য কয়েকটি পানি শোধনাগার নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উপদেষ্টা ডিজাইন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট ২০১১ সালে আরগুমেন্টেশন অব ওয়াটার সাপ্লাই ফর ঢাকা নামে একটি ফ্যাসিবিলিটি স্টাডি করা হয়। স্টাডি রিপোর্টে খিলক্ষেতে এক হাজার মিল্ড ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের অক্টোবর হতে ২০১৩ সালের জুনে এডিবির আর্থিক সহায়তায় ফ্যাসিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টটি মট ম্যাক ডোনাল্ড লিমিটেড রিভিউ করে। এই রিভিউ কাজ চলাকালীন খিলক্ষেতের পরিবর্তে গন্ধর্বপুরে ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব জায়গায় মেঘনা নদী হতে পানি সরবরাহ করে প্রথম পর্যায়ে ৫০০ মিল্ড ও দ্বিতীয় ফেজে ৫০০ মিল্ড পানি শোধনাগার নির্মাণের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। সে জন্য প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ডিজাইন বিল্ড অপারেশন (ডিবিও) প্যাকেজের দরপত্র জমাদানের সময়সীমা বৃদ্ধি প্রকল্পটি চারটি প্যাকেজ নিয়ে গঠিত। প্রকল্পের প্রধান অংশ ৫০০ মিল্ড ক্ষমতাসম্পন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণসহ ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টুইন রো ওয়াটার ট্রান্সমিশন লাইন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম তীরে বিশনন্দী পয়েন্টে এক হাজার ৫০ মিল্ড ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক নির্মাণ। এই কাজগুলো ডিজাইন বিল্ড অপারেশন প্যাকেজের আওতায় সম্পন্ন করা হবে। এডিবি, এএফডি এবং ইআইবি ৩টি ঋণদাতা সংস্থা প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। প্রকল্পের মূল এ প্যাকেজটি টু স্টেজ বিল্ডিং পদ্ধতিতে দরপত্র প্রক্রিয়া করা হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রথম পর্যায়ের দরপত্র ডকুমেন্ট তৈরি প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং লিড ডোনার এডিবির গাইডলাইন অনুসরণ করে স্টান্ডার্ড হোমোনাইজড বিডিং ডুকুমেন্ট (এসএমবিডি) প্রস্তুত করা হয়। এই ডকুমেন্টের ওপর এডিবি, এএফডি এবং ইআইবির অনাপত্তি দিলে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম পর্যায়ের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র পত্রিকায় প্রকাশের পর বিদেশি বিভিন্ন দরদাতা ফার্ম সমসাময়িক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দরপত্র জমাদানের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য আবেদন করে এবং ৩ বার সময় বাড়ানো হয়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১