আপডেট : ১৮ December ২০২০
সরকারের প্রণোদনা পাওয়া কারখানার ২১ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা-ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘তৈরি পোশাক খাতে করোনাভাইরাস উদ্ভূত সংকট : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংস্থাটি বলছে, সার্বিকভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। এছাড়া অর্ডার বাতিল করার অজুহাতে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব কারখানা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি। টিআইবি জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে একত্রে বহুসংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও পরে অল্প সংখ্যক করে নিয়মিতভাবে শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। প্রণোদনা পাওয়ার পরও বিজিএমইএ’র সভাপতি কর্তৃক বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাই করার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা একদিকে যেমন এ খাতে শ্রমিকদের ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি করে; অপরদিকে মালিকদের শ্রমিক ছাঁটাইয়ে উৎসাহিত করে। মার্চ ও এপ্রিলে কারখানাসমূহে লে-অফ ঘোষণার পর যেমন অনেক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে, তেমনি জুন ও জুলাই মাসেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারখানাসমূহে ইচ্ছাকৃত ছাঁটাই আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে কম বেতন ও মজুরি ছাড়া অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটি আরো বলেছে, করোনা সংকটের শুরুতে কার্যাদেশ না থাকায় বিজিএমইএ’র ৩৪৮টিসহ মোট এক হাজার ৯০৪টি কারখানা লে-অফ ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী, কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ প্রদান না করে কারখানাসমূহ লে-অফ ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, লে-অফ ঘোষিত কারখানাসমূহে এক বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত শ্রমিকরা মূল বেতনের ৫২ শতাংশ বেতন পাবেন এবং ৪৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাড়ি ভাড়া পাবেন। তবে এক বছরের নিচে চাকরিরত শ্রমিকরা কোনো প্রকার সুবিধা পাবেন না। লে-অফ ঘোষণার কারণে এক বছরের কম সময় কর্মরত অনেক শ্রমিক কোনো সুবিধা ছাড়া চাকরি হারান। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারখানা মালিক কর্তৃক কোনো প্রকার নোটিশ প্রদান না করে এবং অর্ডার বাতিল করার অজুহাতে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। এসব কারখানা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি। কিছুক্ষেত্রে কারখানা আগে থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি এবং ব্যাংকের ঋণ ও সরকারি পরিষেবা পরিশোধ করেনি— এমন কারখানাসমূহ কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১