বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৮ December ২০২০

৬০ হাজারের এসি ৫ লাখ টাকা

দুইশ কোটি লোপাট

কেনাকাটায় প্রতিষ্ঠানের নাম ভুয়া


ডাক বিভাগকে আধুনিকীকরণ ও যুগোপযোগী করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মান উন্নয়নেও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল সার্ভিস। কিন্তু একটি দুষ্টচক্র রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানকে লুটেপুটে খাচ্ছে। চক্রটি একটি প্রকল্প থেকে সম্প্রতি ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত সময়ে গ্রাহকের পণ্য পৌঁছানো ও ডাক বাছাই প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করতে ২০১৮ সালে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ওই বছর জানুয়ারিতেই মেইল প্রসেসিং ও লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি জেলায় মেইল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ডাক বিভাগ। এসব সেন্টার নির্মাণের জন্য ৩০ ধরনের যন্ত্রপাতি কেনে ডাক বিভাগ, যেসব কেনাকাটায় ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় একেকটি পণ্য বাজার মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শুধাংশু শেখর ভদ্র এসব দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাজারে যে এসির দাম ৬০ হাজার টাকা, প্রকল্পে ওই এসি ৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় ক্রয় দেখানো হয়েছে। একইভাবে ৫৩ লাখ টাকার জেনারেটর ৭৪ লাখ টাকা, ২২ লাখ টাকার ফর্ক লিফট ৫০ লাখ টাকা, ৯ লাখ টাকার সোলার সিস্টেম ৪১ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার টাকার পজ মেশিন ৩৫ হাজার টাকায় ক্রয় দেখানো হয়েছে। অথচ বাজারমূল্যের কয়েকগুণ বেশি দামে কেনা মানহীন ১৭ হাজার পজ মেশিন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। তাহলে অতিরিক্ত মূল্যে কেনা এসব পজ মেশিন কি কাজে আসবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মনসুর রহমান মোল্লা বলেন, এখানে তার করার কিছুই নেই। আমার কর্তৃপক্ষ আছে, বিভাগীয় প্রধান আছেন। দয়া করে তার সঙ্গে কথা বলেন। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। পরে ডাক অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ও প্রকল্পের বাজারদর কমিটির সভাপতি হারুনুর রশীদ কেনাকাটার কমিটি নথিতে ব্রাইট সলুয়েশন, লিটল প্ল্যানেটর নাম ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ব্রাইট সলুয়েশনের ৮৭ নিউ ইস্কাটন রোড অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ডাক বিভাগের সঙ্গে তাদের কোনো কেনাবেচা হয়নি। এমনকি কোটেশন দেওয়া-নেওয়াও হয়নি। এ প্রকল্প সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। লিটল প্ল্যানেট গুলশান অ্যাভিনিউ-এর অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানন, ডাক বিভাগের সঙ্গে তাদের কোনো লেনদেন হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেকটা ভৌতিকভাবে এসব পণ্য সরবরাহের কাজটি পায় ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহপরিচালক শুধাংশু শেখরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান। তারা জালিয়াতি করে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। এভাবে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অনিয়ম প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেবে সরকার। কোথায় দুর্নীতি হয়েছে তা আপনারা আমাকে দেখিয়ে দিন, আমি ব্যবস্থা নেব। সেই জায়গা পরিষ্কার করার দায়িত্ব আমার।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শুধাংশু শেখর ভদ্র, অধিদপ্তরের পরিচালক হারুনুর রশীদ, কমিটির সদস্য শামিমুর রাজী (প্রকৌশলী,

ডাক অধিদপ্তর), কমিটির সদস্য চাঁদ মিঞা (সহকারী প্রকৌশলী, ডাক অধিদপ্তর) ও কমিটির সদস্য জাকির হোসেনসহ (সহকারি প্রকৌশলী, ডাক অধিদপ্তর) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনিয়মের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে প্রকল্প থেকে আর্থিক দুর্নীতির সত্যতা মিলেছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১