বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ December ২০২০

পদ্মা সেতুর টোলের পরিমাণ নিয়ে জল্পনা


পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানো হয়েছে। আনুষঙ্গিক আরো কিছু কাজ এখনো বাকি। সেসব সম্পন্ন হলে ২০২২ সালের জুন মাসে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সেতুটি চালু হতে এখনো বেশ কিছু সময় লাগলেও নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা চলছে টোল কত হবে তা নিয়ে।

সাধারণত যেকোনো সেতু নির্মাণে যে টাকা ব্যয় হয়, তা টোল বা গাড়ি পারাপারে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায়ের মাধ্যমে ওঠানো হয়। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগ হবে।  সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিদেশি অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করা হলে কত টাকা টোল ধার্য করা উচিত, সে বিষয়ে দাতাদের শর্ত বা পরামর্শ থাকে। কিন্তু দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত সেতুর ক্ষেত্রে এ রকম কোনো নীতিমালা নেই। সাধারণত সেতু হওয়ার আগে ফেরিতে যে হারে টোল নেওয়া হয়, সেতুতেও সেই হারে টোল নির্ধারণ করে থাকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৫০ ভাগ ও আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ০৩ ভাগ। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৭৫ ভাগ। সেতু বিভাগ টোলের একটি প্রাথমিক হার নির্ধারণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতু প্রকল্পের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, টোলের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তির স্বার্থে। সরকারের উচ্চপর্যায় চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারে। তাই টোলের হার চূড়ান্ত বলা যাবে না। গত বছর সেতু বিভাগ পদ্মা সেতু চালুর পর ১৫ বছরের জন্য একটি টোল হারের তালিকা করে। এতে প্রস্তাব করা হয়েছে, বাসের ক্ষেত্রে টোলের হার হতে পারে ২ হাজার ৩৭০ টাকা। ছোট ট্রাকের জন্য ১ হাজার ৬২০, মাঝারি ট্রাকের ক্ষেত্রে ২ হাজার ১০০ ও বড় ট্রাকের ক্ষেত্রে ২ হাজার ৭৭৫ টাকা। প্রতি ১৫ বছর পরপর টোলের হার ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে।

মাওয়া ফেরিঘাটের টোল আদায় কেন্দ্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে পদ্মা পাড়ি দিতে ফেরিতে দিনের বেলা একটি বাসকে ১ হাজার ৪০০ টাকা টোল দিতে হয়। যাত্রী থাকলে এর সঙ্গে ৪৫০ টাকা যোগ হয়। রাতের বেলা যোগ হয় আরো ৪৭০ টাকা। সব মিলিয়ে যাত্রীবাহী বাসের টোল দিনে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং রাতে ২ হাজার ৩২০ টাকা। এ ছাড়া প্রাইভেট কারের টোল ৫০০, মাইক্রোবাসের ৮৫০ এবং মোটরসাইকেলের ৭০ টাকা। ফেরিতে ট্রাকের টোল ১ হাজার ৮৫০ টাকা। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমার পর প্রতি টনে ১৬০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতুর চেয়ে পদ্মা সেতু দৈর্ঘ্য বেশি। তাই এর নির্মাণ খরচও বেশি। এ কারণে পদ্মা সেতুতে টোল বেশি হবে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। বঙ্গবন্ধু সেতুতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর পদ্মা সেতু তৈরিতে সর্বশেষ হিসাব পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হয় ১৯৯৮ সালে। এখন সেতুটি পারাপারে বড় বাসকে ৯০০, ছোট বাসকে ৬৫০, বড় ট্রাককে ১ হাজার ৪০০, মাঝারি ট্রাককে ১ হাজার ১০০ এবং ছোট ট্রাককে ৮৫০ টাকা হারে টোল দিতে হয়। প্রাইভেট কারের টোল ৫০০ টাকা।

২০১২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। সেতু নির্মাণের জন্য ঋণ হিসাবে টাকা দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকার যথাসম্ভব টোলের হার সীমিত রাখতে চায়।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১