আপডেট : ১০ December ২০২০
সম্ভাবনা হলো সত্যি। এখন পুরো দৃশ্যমান পদ্মা সেতু। বসানো হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সবশেষ স্প্যান। এর মধ্য দিয়ে স্বপ্নের এই সেতুর সবচেয়ে জটিল ধাপ সম্পন্ন হবে। এর পর বাকি থাকবে রোডওয়ে স্ল্যাব, রেলওয়ে স্ল্যাব, গ্যাস পাইপলাইন, প্যারাপেটওয়াল বা রেলিং, ভায়াডাক্ট, গ্যাসলাইন, ৪০০ কেভিওয়াটের বিদ্যুৎ লাইনসহ আনুষঙ্গিক কাজ। গতরাতেই সবশেষ স্প্যানটি মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের কাছে নেয়া হয়। শেষ স্প্যানটি বসানোর কাজ হওয়ার মধ্য দিয়ে ৬ কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতুর সবটাই দৃশ্যমান হলো। কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মার দুই প্রান্ত- মাওয়া ও জাজিরা এক বিন্দুতে মিলেছে। ৩ বছরের কাছাকাছি সময়ে সবগুলো অর্থাৎ ৪১টি স্প্যান স্থাপনের কাজ শেষ। স্প্যান বসানোর এই ধাপটি ছিল প্রকল্পের সবচেয়ে জটিল প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। এখন অন্য যেসব কাজ বাকি রয়েছে সেগুলো সময়সাপেক্ষ হলেও ছোট কাজ এবং জটিল নয়। কিন্তু স্প্যান বসানোর কাজটিই ছিল খুব জটিল বিষয়।’ এদিকে, সবশেষ স্প্যানটি বসানোর ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেসব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তাই অনেকটাই অনাড়ম্বরভাবে শেষ স্প্যানটি তোলার কাজ সম্পন্ন হবে। আগামীকাল শুক্রবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে পর্যালোচনা সভা করবেন। সেখানে তিনি তার প্রতিক্রিয়া তুলে ধরবেন। দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতুর স্টিলের স্প্যানের ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। নিচে স্প্যানের ভেতর দিয়ে চলাচল করবে ট্রেন। ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিস্তারিত সমীক্ষার পর ২০০৪ সালে মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরামর্শ দেয় জাপানের দাতা সংস্থা জাইকা। ২০০৭ সালে একনেকে পাস হওয়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এরপর ২০১১ সালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পর ব্যয় দাড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি। ২০১৮ সালের জুনে আবারো ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে আরেক দফা প্রস্তাব সংশোধন করতে হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সেতু। জাপানি সংস্থা জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১