বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ৩১ October ২০২০

কাল খুলছে সাফারি পার্ক, প্রস্তুতি সম্পন্ন

দর্শনাথীরা অন্য রকম মুগ্ধ হবে হাজারো পাখি দেখে

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির কোলাহলে মুখর সাফারি পার্ক ছবি : বাংলাদেশের খবর


এশিয়ার সর্ববৃহৎ গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কাল ১ নভেম্বর খুলে দেওয়া হচ্ছে দর্শনার্থীদের জন্য। এখন থেকে সপ্তাহে মঙ্গলবার ব্যতিত সপ্তাহের বাকি সব দিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ উন্মুক্ত থাকবে পার্কে। নির্ধারিত প্রবেশ ফি দিয়ে শিশুসহ সব বয়সের দর্শনার্থীরা পর্যটক হিসাবে ঘুরে দেখতে পারবেন প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী ঘেরা নৈস্বর্গীক সৌন্দর্যের এ সাফারি পার্কের বিভিন্ন ইভেন্ট। 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার থাবায় দীর্ঘ সাত মাস ১১ দিন বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর রোববার খুলছে প্রাণীবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। এরই মধ্যে পার্ক খোলার সকল প্রস্তুতি শেষ করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষরা জানান আগত দর্শনার্থীরা অন্য রকম মুগ্ধতা পাবেন করোনাকালে পার্কে আশ্রয় নেওয়া বাহারি জাতের হাজারো পাখির কোলাহলে। নতুন জন্ম হওয়া প্রাণিদের নতুন বিশ সদস্যও ভিন্ন আনন্দ দিবে দর্শনার্থীদের। তবে কঠোর ভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি এমনটি জানানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষরা জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পার্কের অনেক সড়কেই ঘাস জন্ম নিয়েছে। তা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রধান ফটকেও ঝাড়ু দিয়ে রঙ করে পরিছন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রাণির বেষ্টনির সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। কদিন ধরেই ঘাস কাটাসহ পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজ করছে বেশ কিছু কর্মী। 

ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান জানান, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পর্যটক বাসে উঠার সময় সবাইকে তিন ফিট দূরত্বে অবস্থান করে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে হবে। সেখানে থাকবে জীবানুনাশক। পায়ে পরিহিত জুতা কে জীবাণুমুক্ত করার জন্য সেখানে বিশেষ ট্রে এর মধ্যে জীবানুনাশক ওষুধ দেয়া থাকবে। পর্যটকরা সেখানে পা ভিজিয়ে পর্যটক গাড়িতে উঠে কোর সাফারি দেখবেন। তাছাড়া পার্কের মূল ফটকে প্রবেশেও স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী তিন ফিট দূরত্ব মেনে সারিবদ্ধ ভাবে প্রবেশ করতে হবে। সেখানেও জীবাণুনাশক স্প্রে এর ব্যবস্থা থাকবে। পার্কের প্রত্যেকটি প্রাণি দেখার স্থান গুলোতে পর্যটকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

অপর ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার সরোয়ার হোসেন খান জানান, করোনাকালে নিবিড় নির্জনতা পেয়ে পার্কে বিভিন্ন প্রাণিদের পরিবারে যুক্ত হয়েছে ২০ শাবক সদস্য। যা করোনাকালে আর্শিবাদ হিসাবে পার্কে প্রাণিদের বিশেষ জন্মহার। তিনি বলেন, মার্চ মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জেব্রার ৬টি বাচ্চা ও কমন ইল্যান্ড জন্ম দিয়েছে একটি বাচ্চার। এ সময় ওয়াইল্ড বিস্টের চারটি শাবক, সাম্বার হরিণের একটি শাবকেরও জন্ম হয়েছে। আরো গয়াল চারটি, টামারিন প্রাণি মারমোসেট মানকির দুটি বাচ্চাসহ বিভিন্ন প্রাণির পরিবারে নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলে পার্কে এখন বিলুপ্ত নীলগাই দম্পত্তি রয়েছে যা ভিন্ন আনন্দ দিবে দর্শনার্থীদের। তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে বন্ধ থাকা পার্কের নিস্তব্ধ পরিবেশে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর দেশি পাখির আগমন ঘটেছে। প্রায়ই আমরা মহাবিপন্ন কিছু পাখির দেখা পাই পার্কের ভিতরে । করোনাকালে পার্কের জীববৈচিত্র আলাদা সমৃদ্ধি পেয়েছে পার্ক বন্ধের সুযোগে। দেশি পাখি নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে বংশ বৃদ্ধি করেছে অনেক বেশি। এবার পাখিও দর্শনার্থীদের ভিন্ন আনন্দ দিবে এ করোনাকালে পার্কে বেড়াতে আসলে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় পার্ক বন্ধ থাকার পর কাল খুলছে। গত মার্চ মাসের ২০ তারিখ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি আবারো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনার্থীদের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রাণ ফিরে পাবে জীববৈচিত্রের এ সবুজ বেষ্টনি ঘেরা প্রাণিদের স্বর্গরাজ্য। তবে এক্ষেত্রে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানার মানসিকতা থাকতে হবে। আমরাও স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর অবস্থানে থাকব।

তিনি বলেন, পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সচেতন থাকবে। তিনি বলেন পার্ক খোলার প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো বলেন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পার্কে বেশ কিছু প্রাণি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। এ দিকে বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো পাখির আগমন ঘটেছে পার্কের বেশ কিছু স্থানে । যা  অনেক দিন পর আগত দর্শনার্থীদের ভিন্ন স্বাদের আনন্দ দিবে। 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১