বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৯ October ২০২০

ছয় মাসের অন্তস্বত্ত্বা স্ত্রীকে ৪ টুকরা করল পুলিশ সদস্য!


পারিবারিক কলহের জের ধরে বাগেরহাটের শরণখোলায় এক পুুলিশ সদস্য তার ৬ মাসের অন্তস্বত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই পুলিশ সদস্য তার স্ত্রীর মরদেহ থেকে মাথা, দু’ হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন ফেলে। এরপর পেট কেটে বাচ্চা বের করে আনে। পরে ওই লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ ঘাতক সাদ্দামকে গ্রেফতার করে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার তাফালাবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্র জানায়, স্থানীয় তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির কনেষ্টবল  সাদ্দাম হোসেন (৩৫), তার দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা বেগম (৩০), কে নিয়ে তাফালবাড়ী বাজারের বাসিন্দা বেলায়েত তালুকদারের বাসায় বসবাস করতো। পারিবারিক কলহের জের ধরে সাদ্দাম ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো। পাশের রুমের ভাড়াটিয়ারা গত কয়েক দিন ধরে না থাকার সুযোগে সাদ্দাম ওই দিন গভীর রাতে তার ৬ মাসের অন্তসত্বা স্ত্রী জোসনা বেগমকে (৩৫) কে  নৃশংস ভাবে হত্যা করে। হত্যার পর তার মরদহ থেকে মাথা, দু’ হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে। এরপর পেট কেটে তার বাচ্চা বের করে আনে।

পরে খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ  গতকাল শুক্রবার ভোর রাতে সাদ্দামের ওই ভাড়া বাসা থেকে জোসনার বস্তাবন্ধী মৃতদেহ উদ্ধার করেন এবং পুলিশ কনেষ্টবল সাদ্দামকে আটক করেন। জেলা পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার রায় সহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। আমরা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত জোসনার মা জুলেঘা বেগম বাদী হয়ে গতকাল শরণখোলা থানায় ঘাতক সাদ্দামের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জুলেখা বেগম জানায়, প্রেম করে গত এক বছর পূর্বে সাদ্দাম তার মেয়েকে বিয়ে করেন। জোসনার বাড়ী খুলনা জেলার রূপসা থানার চানপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আবু বকর শেখের কন্যা। সাদ্দাম সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা আ. লতিফের ছেলে। সে ২০১৩ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। গত তিন মাস পূর্বে ফকিরহাট থেকে তাফালবাড়ীর ওই পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করেন।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাদ্দাম তার স্ত্রী জোৎসনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ধারালো অস্ত্র লাশ টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখেন। গোপনে সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে রাতেই শরণখোলা থানা পুলিশ শরণখোলার তাফাল বাড়ি বাজার এলাকার মামুন ভিলা নামের ওই ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাদ্দামকে আটক করে। পরে পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে বস্তাবন্দি জোৎসনার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন জোৎসনা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। শরণখোলার তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন মামুন ভিলা নামের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা।

নিহত জোৎসনা বেগম ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলায়। বৃহস্পতিবার রাতে জোৎসনার আগের ঘরের সন্তান নিয়ে কলহের জের ধরে তাকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সাদ্দাম হোসেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১