বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৭ October ২০২০

বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন প্রকৌশলীরা


নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলাতে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয় দফার বন্যার হাত থেকে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোকে রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরাও দিনে ও রাতে পাহারা দিচ্ছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলেই স্থানীয়দের সহায়তায় তা রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই গত মাসের শেষে দিকে প্রবল বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলের কারণে নওগাঁর দুটি প্রধান নদীসহ সাতটি নদীতে আশংকাজনক হারে বাড়তে থাকে পানি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফার বন্যায় আক্রান্ত হয় নওগাঁ জেলা। বর্তমানে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে আত্রাই নদী। ফুলে-ফেঁপে উঠেছে আত্রাই নদীর প্রতিটি অংশ। আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত একটি গ্রাম রসুলপুর। সম্প্রতি নওগাঁ-আত্রাই-নাটোর মহাসড়কের পাশে রসুলপুর গ্রামের সিপেজের ফলে সৃষ্ট স্লোপ ধসের সূচনা হয়। খবর পেয়ে সেই সৃষ্ট ধসে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে পানি উন্নয়নের বোর্ডের প্রকৌশলীসহ অন্য কর্মচারীরা মেরামত করেন। ফলে নওগাঁ-আত্রাই মহাসড়কটি ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে যেমন রক্ষা পায় তেমনিভাবে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক গ্রাম ও কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল। অন্যদিকে বাপাউবোর সার্বিক সহায়তায় রক্ষা পেল আত্রাই নদীর তীরবর্তী আকেটি গ্রাম দর্শন। দর্শন হচ্ছে আত্রাই নদীর বাম তীরে নাগর ভ্যালি প্রকল্পের অধীন বাপাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন গ্রাম। আত্রাই নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে গ্রামের  ভেতর পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বিষয়টি জানার পর বাপাউবোর কর্মচারী-কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ওভারটপিং নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। গত বৃহস্পতিবার সবার অজান্তে দর্শন গ্রামের এক বাড়ির নিচ দিয়ে লিকেজ হওয়া শুরু করে এবং বাড়িটিতে ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে বাপাউবোর তত্ত্বাবধানে দেড় শতাধিক মানুষের চেষ্টায় গ্রামটিকে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। দর্শন গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল ও শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি নদীর বেড়িবাঁধের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করতে। রাত-দিন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের এঅংশগুলো পর্যবেক্ষণ করছি আর নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, বাঁধে টহল জোরদার করার জন্য এলাকা ভাগ করে দিয়েছি। সেই অনুপাতে আমরা যার যার অংশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। আশা করছি, এতে অনেক গ্রাম ও জমির ফসল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। দিনে কিংবা রাতে বাঁধের কোথাও কোনো সমস্যা হলে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১