আপডেট : ১৮ March ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দিনটিকে দেশব্যাপী ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদযাপন করা হয়। একই সঙ্গে এদিন মুজিববর্ষ শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর দিন থেকে (১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এদিন গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সকাল ৭টা ৮ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। প্রথমে সরকারপ্রধান হিসাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে দলীয় শীর্ষ নেতা ছাড়াও তার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থাপ্রধান, দেশের বিশিষ্টজনসহ দেশের স্তরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ’৭৫ সালের পরে যারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের নাম একদিন মুছে যাবে। তারা আজ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ভবন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর আগে ভোর ৬টা থেকে দলীয় নেতা-কর্মী, হাজারো মুজিব ভক্তসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন ওই এলাকায়। তাদের অনেকের পরনে ছিল মুজিববর্ষের লোগো সংবলিত টি-শার্ট। এ সময় উপস্থিত হাজারো নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘মুজিবের বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই’, ‘আজকের এই দিনে মুজিব তোমায় মনে পরে’, ‘লাল সবুজের পতাকায় মুজিব তোমায় দেখা যায়’ ইত্যাদি স্লোগান। এসব স্লোগানে পুরো এলাকার পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে। নেতা-কর্মীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও। পরে সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও। জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ৮টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয় আতশবাজি। লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে শুরু হয় এ দিবসটি। ‘মুক্তির মহানায়ক’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির বাণী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, তার বোন শেখ রেহানার অনুভূতি প্রকাশ ও তার লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে পাঠ, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাপ্রধানদের ভিডিওবার্তা প্রচার করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবসটি জাতীয় শিশু দিবস বিধায় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের পরিবেশনা হয়। শত শিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসংগীত, মুজিববর্ষের থিমসং, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরে একটি থিয়েট্রিকাল পারফরম্যান্স ও বিশ্বখ্যাত কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের পরিবেশনাও ছিল অনুষ্ঠানে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু করে হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত আতশবাজিতে নামে জনতার ঢল। বিকাল থেকেই এসব স্থানে ভিড় করতে থাকেন হাজারো মানুষ। দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে সারা দেশেই। জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা দিবসটি উদযাপন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাদামাটাভাবে পালিত হয়েছে দিবসটি। কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। এমনকি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পালিত হয়েছে দিবসটি। বিনামূল্যে সার্জারি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, ওপেন হার্ট সার্জারি, স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। দিনটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী করাইল বস্তি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশের মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা সভা করা হয়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১