আপডেট : ১৩ March ২০২০
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সামরিক প্রধান বহিষ্কৃত মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনাকারী আবু কায়সার ওরফে রনির। সে দুবাই অবস্থানকালে পুরান ঢাকার স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মরিয়া রনি দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় তখন এগুতে পারেনি। পরে দেশে এসে আরো চেষ্টা চালায়। সে সংগঠনটির একটি সেলের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিল। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) তদন্তাধীন মামলায় রিমান্ডে থাকা রনি জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এসব জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, রনি দুবাইতে থাকাকালে ঢাকায় নাশকতার জন্য অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে বোমা তৈরির উপকরণ সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। রনির সহযোগী মামুন এর আগে জানিয়েছিল বোমা তৈরির জন্য পটাসিয়াম নাইট্রেট সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সে ফ্রান্সে অবস্থানকালে অনলাইন মার্কেট প্লেস আলিবাবা ডটকম থেকে দশ টন পটাশিয়াম নাইট্রেট অর্ডার দিয়েছিল। বিস্ফোরক কেনার জন্য ডলারের মাধ্যমে অগ্রিম পরিশোধও করেছিল। কিন্তু বিশেষ ঝামেলার কারণে ওই বিস্ফোরক উপাদান তারা সংগ্রহ করতে পারেনি। এসব ঘটনায় নাসকতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় রনি। তারপর সাত মাস জেলে থাকার পর দুবাই পুলিশ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। সূত্রটি আরো জানায়, রনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এর আগে কয়েক দফায় অনুসারীদের পাঠায় ইসকন মন্দির রেকি করতে। সিটিটিসির উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রনি দুবাইয়ে বসে আনসার আল ইসলামকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে সে তার অনুসারীদের মাধ্যমে ঢাকায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। আনসার আল ইসলামের এই সেলের সদস্যদের মধ্যে ৮ জনকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করা রনিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এই সেলে আরো কয়েকজন রয়েছে। তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে আনসার আল ইসলামের সামরিক প্রধান বহিষ্কৃত মেজর জিয়া সম্পর্কেও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রনি ২০১৮ সালে দুবাই যায়। দুবাই থাকা অবস্থায় উসমান গণি নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। দুবাইয়ে বসেই সে টেলিগ্রাম ও অন্যান্য নেটওয়ার্কিং অ্যাপসের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে গত বছর দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আবু কায়সার রনির নির্দেশেই আনসার আল-ইসলামের একটি সেলের সদস্যরা কথিত জিহাদের উদ্দেশ্যে ঢাকার ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করে। সিটিটিসি সূত্র আরো জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে সিটিটিসির একটি ইউনিট আনসার আল ইসলামের এই সেলের সদস্যদের ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ২৭ নভেম্বর স্বামীবাগ এলাকা থেকে মামুন, রাইসুল ও সারোয়ার নামে তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই আবু কায়সার রনির নির্দেশে ইসকন মন্দিরে হামলার জন্য রেকি করার কথা স্বীকার করে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, মামুন জবানবন্দিতে আবু কায়সার রনিকে তাদের সেল প্রধান বা দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করে। এরপর থেকেই তারা রনিকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করে আসছিলেন। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া মামুনও এই গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে কাজ করত। মামুন বছর কয়েক আগে পর্তুগাল হয়ে ফ্রান্সে গিয়েছিল। গত বছরের ১৫ নভেম্বর সে জঙ্গি হামলার উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে আসে। কিন্তু হামলার জন্য রেকি করতে গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিটিটিসি সূত্র জানায়, এই গ্রুপের অন্যতম আরেক সদস্য হলো নাজমুল ওরফে উসমান গণি ওরফে আবু আইয়ুব আল আনসারী। ২০১৮ সালে উসমান গণির নেতৃত্বেই জঙ্গিবাদবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণ করায় চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই সময় উসমান গণির দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, উসমান গণিকে ধরতে পারলে এই সেলের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়ার খোঁজ পাওয়া যেতে পারে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১