আপডেট : ১১ March ২০২০
কক্সবাজার পৌর এলাকাসহ সব জায়গায় বেড়েছে মশার উপদ্রব।এতে আবারো ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ। তারা বলছেন, কয়েক মাস আগে ডেঙ্গু নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার কারণে মশার উৎপাত কিছুটা কম ছিল। এতে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশা নিধনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। কক্সবাজার পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের হাঙ্গর পাড়ার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন,গত কয়েকদিন ধরে মশার উৎপাত খুব বেড়েছে। রাতে দিনে শান্তিতে ঘরে থাকতে পারছি না। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে পারি না মশার কারণে। তিনি বলেন,ঘরে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে মহা সমস্যায় আছি। তাই মশা নিধনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই দাবী করেন পেশকার পাড়ার বাসিন্দা নাছিমা বেগম। তিনি বলেন,আমাদের এলাকা যে পৌর এলাকার সেটা বোঝা যায় না। এখানে সব জায়গায় ময়লা আবর্জনার ভাগাড়।এসব ময়লা সাত দিনেও পরিষ্কার করা হয় না। আর নালাতো পরিষ্কার বছরেও হয় না। তাই এখানে মশার উৎপাত সব চেয়ে বেশি।কিছুদিন কম থাকলেও সম্প্রতি বেড়েছে মশার উপদ্রব। এতে আমরা মারাত্মক সমস্যায় আছি। শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার কলেজ ছাত্র সোয়েব নুর বলেন,এখন কলেজের পরীক্ষা চলছে একটু রাত জেগে পড়তে চাইলেও মশার উপদ্রবে বসা যায় না। আর রাতে ঘুমাতে গেলেও মশার কারণে ঘুমাতে পারি না। ৬নং ওয়ার্ড এলাকার বড়ুয়া পাড়া এলাকার সোলাইমান বলেন,ঘরে ছোট বাচ্চা থাকায় রুমে মশার কয়েল দেওয়া যায় না। মশার কারণে রাতে ঘুমটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান,আমরা ছোট বেলায় দেখেছি পৌরসভার পক্ষ থেকে ঘরে ঘরে এসে মশা মারতে স্প্রে করতো। এখন সে সব কর্মসূচি নেই। আর নালা নর্দমা কখনো পরিষ্কার হয় না। কিছুদিন আগে ডেঙ্গু নিয়ে ব্যাপক দৌঁড়ঝাপের কারণে মশা কিছুটা কমলেও এখন আবার বেড়েছে। এদিকে শুধু পৌরসভা বা অন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের উপর দোষ না দিয়ে নিজেদের বাড়ির আশপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিজেদের নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী। তিনি বলেন,আমরা শুধু অন্যদের দোষারোপ করি এই সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। এখনো বেশিরভাগ মানুষ বাড়ির ময়লা রাস্তায় ফেলে যায়,নিজের বাড়ির পাশের নালা পরিস্কার রাখে না। তবে হ্যাঁ যারা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান তারাও ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছে না। ডেঙ্গু একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এটা বহুদিনের সৃষ্টি। আগে থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। তাই পরিস্থিতি ভয়াবহ না হওয়ার আগে মশার উপদ্রব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন,শীতকালে সাধারণত মশার উপদ্রব একটু বাড়ে। তবে অপরিষ্কার পরিবেশ এবং জমানো পানি থেকে মশার সৃষ্টি হয়। তাই মশা নিধনের চেয়ে মশার জন্মস্থান ধ্বংস করতে হবে। আবার মশার কয়েল স্প্রেসহ যাবতীয় কিটনাশক ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বণ করতে হবে। কারণ এসব কিছুর মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। তাই রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারী টাঙ্গানো প্রয়োজন। এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেন,পৌরসভা এখন যথেষ্ট ফগার মেশিনসহ যাবতীয় সরঞ্জাম আছে। মশা নিধনে শিগগিরই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১