আপডেট : ০৯ March ২০২০
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। গত বুধবার খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এই চিঠি দেন। খালেদা জিয়ার অনুমতি নিয়েই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে শামীম এস্কান্দর বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হোক।’ এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এই চিঠিতে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু লেখা নেই। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে লেখা খালেদার মুক্তির এই আবেদন প্রসঙ্গে অবগত নয় বিএনপি। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার সাময়িক মুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনে আসলে কী লেখা আছে, জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা আমি ঠিক বলতে পারব না, পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়ে থাকলেও হতে পারে। আবেদনে কী আছে আমার জানা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যদি সুস্পষ্টভাবে প্যারোলের আশ্বাস দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে আপনারা বিষয়টা বিবেচনা করবেন কি না, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা বহুবার বলেছি, এটা (প্যারোল) সম্পূর্ণভাবে তার (খালেদা জিয়া) ব্যক্তিগত ব্যাপার, ম্যাডামের ব্যক্তিগত ব্যাপার, তার পরিবারের ব্যাপার। সেই ক্ষেত্রে আমরা এখন কিছু বলছি না।’ এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখে এসে তার স্বজনরা বলেছিলেন, তারা খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে চান। এ ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তি হলেও তাদের আপত্তি নেই। এরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি জোরালোভাবে আসতে থাকে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে তখনো বলা হয় তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। পরে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মধ্যে ফোনালাপ হয়। মির্জা ফখরুল সাফ জানিয়ে দেন ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার প্যারোল নিয়ে কোনো কথা হয়নি। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকার ও বিএনপি এবং তার পরিবারের মধ্যে একটা সমঝোতা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। জামিনে বিদেশে যাবেন খালেদা জিয়া—এমন শর্তে আবারো হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনে নতুন কোনো কারণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে তা খারিজ করে দেন। এর ফলে আইনিপ্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফের সামনে চলে আসে প্যারোলের বিষয়টি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে তার সাময়িক মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে খালেদা জিয়ার সম্মতিও রয়েছে। সূত্র জানায়, পরিবারের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখালে খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ব্যাপারে তার সম্মতি নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে। গত শনিবারও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন। সেখানে তারা জামিন ও প্যারোলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগারে। কয়েক দফায় সেখান থেকে এনে তাকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বছর ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১