আপডেট : ১২ January ২০২০
শ্যামনগরের বাদঘাটা গ্রামের চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্রী মরিয়ম খাতুন হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আলোচিত এ হত্যা রহস্য উম্মোচন করে পুলিশ অপরাধী সুব্রত মন্ডলকে গ্রেপ্তারও করেছে। সুব্রত মন্ডল (২২) শ্যামনগর উপজেলা সদরের কাঁচড়াহাটি গ্রামের পরিমল মন্ডলের ছেলে। নিহত কলেজ ছাত্রী মরিয়ম খাতুন ছিলেন পার্শ্ববর্তী বাদঘাটা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের কন্যা। ১২ জানুয়ারী রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের রহস্য তুলে ধরে ঘটনার বিশদ বর্ননা দেন। পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান বাদঘাটা গ্রামের পরিমল মন্ডলের ছেলে সুব্রত মন্ডল এ হত্যাকান্ডের হোতা। বুধবার সন্ধ্যার পর মুটোফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষন শেষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাষরোধ করে মরিয়মকে হত্যা করে সুব্রত। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান হয় দুই বছর ধরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি তারা শাররীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে মরিয়ম তাকে বিয়ের করার জন্য সুব্রত মন্ডলকে চাপ দিচ্ছিল। ঘটনার দিনে দু’জন সাক্ষাতকালে মরিয়ম তাকে বিয়ে না করলে সুব্রতর বাড়িতে যেয়ে ওঠার হুমকি দেয়। অন্যথা তাকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। যার কারনে সুব্রত প্রেমিকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপুর্বক ধর্ষন করে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মৃতদেহ ফেলে রেখে বাড়িতে ফিরে যায়। সুব্রতকে শনিবার ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে শ্যামনগর থানা পুলিশ। এদিকে সরকারি মহসীন কলেজের ছাত্রী মরিয়ম খাতুনের হত্যাকারীর দ্রুত দৃষ্টান্তমুলক শান্তির দাবিতে রোববার বেলা এগারটায় শ্যামনগরে তার সহপাঠীসহ শিক্ষক-কর্মচারী এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। উল্লেখ্য গত ১০ জানুয়ারী শুক্রবার সকালে উপজেলা সদরের বল্লভপুর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতে খড়ের বোঝার উপর মরিয়মের মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মরিয়মের পরিবারের সদস্যসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোহাম্মদ আলী বাদি হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে শ্যামনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করে। উল্লেখ্য হত্যাকান্ডের শিকার মরিয়ম শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের ছাত্রী ছিলেন এবং সুব্রত মন্ডল ওয়ার্ল্ড ভিশন নামীয় এনজিও প্রতিষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত।
মৃতদেহ উদ্ধারকালে হত্যাকান্ডের শিকার ঐ কিশোরীর গলায় ওড়না দিয়ে গিট্টু দেয়া ছিল এবং তার মৃতদেহের পাশে আরও দুটি ওড়না ছিল।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১