বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৯ January ২০২০

সিরাজগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ১ বছরে ১১০ জনের প্রাণহানি


গত ১ বছরে সিরাজগঞ্জ জেলায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ৬২টি দুর্ঘটনায় সিরাজগঞ্জে ১১০জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২ শতাধিক মানুষ। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে দূর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিমাণ বেড়েছে। ওভারটেকিং, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা, ঘুমের ঘোরে গাড়ী চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং বেহাল সড়ককে দূর্ঘটনার কারণ হিসাবে দাবী করছে পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকরা।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল ৮৫ জনের। আর ২০১৯ সাথে প্রাণহানির পরিমাণ ২৫ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ জনে।

জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ-হাটিকুমরুল, হাটিকুমুরুল-বগুড়া, বগুড়া-নগরবাড়ি ও নাটোর-বনপাড়া এ ৪ টি মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১২৬ কিলোমিটার। এসব মহাসড়কে গত বছর ৪৬ টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮১ জন। এছাড়াও কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও মোটর সাইকেল মিলে ২৬ টি দুর্ঘটনায় মারা গেছে আরও ২৯জন। আর এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। তবে স্বজনরা মামলা এড়াতে লাশ নিয়ে যাবার কারনে কিছু দুর্ঘটনার তথ্য থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়নি। যে কারনে উল্লেখিত হিসাবের চেয়ে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হলেও তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, গত বছর হাটিকুমুরুল-বগুড়া, বগুড়া-নগরবাড়ি ও নাটোর-বনপাড়া ও হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের নলকা পর্যন্ত এ ৪ টি মহাসড়কে ২৯ টি দূর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। আর মামলা হয়েছে ২৯ টি। এর বাইরে আরও কিছু দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্বজনরা মামলা এড়াতে লাশ নিয়ে যাবার কারনে কিছু তথ্য থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে যত্রতত্র ওভারটেক, বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বা হেলপারকে দিয়ে ড্রাইভিং করানোর কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। এছাড়াও বেহাল রাস্তাঘাট ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্যালো ইঞ্জিণ চালিত যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করাও দুর্ঘটনার কারণ।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি সৈয়দ শহিদ আলম জানান, গত বছর বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও হাটিকুমরুল সংযোগ সড়কের নলকা পর্যন্ত মহাসড়কে ১৬ টি দুর্ঘটনায় ১৮জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। আরও কিছু দুর্ঘটনা এবং হতাহতের সংবাদ পাওয়া গেলেও স্বজনরা মামলা এড়াতে লাশ নিয়ে যাবার কারনে কিছু তথ্য থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়নি।

দূর্ঘটনার মূল কারণ হিসাবে অপরিকল্পিত সড়ক ও মহাসড়ক নির্মানকে দায়ী করে সিরাজগঞ্জ মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হাজী আনছার আলী জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে অহরহ দূর্ঘটনা ঘটে। এ সড়কে বেশ কিছু বাক রয়েছে, যা একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত দেখা যায় না। যা দূর্ঘটনার একটি বড় কারণ।

তিনি আরও বলেন, চালকরাও ওভার স্পীডে গাড়ি চালায়। আবার কখনো কখনো ঘুমের তারা ঘোরে গাড়ি চালিয়ে দূর্ঘটনায় কবলে পড়ে। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণেই ঘটে দূর্ঘটনা।

এদিকে, সড়ক-মহাসড়ক নিয়ন্ত্রনে নতুন আইন হলেও সেটি নিয়ে মন্ত্রনালয় এবং মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা-পর্যালোনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যে কারনে যানবাহন নিয়ন্ত্রনে ট্রাফিক বিভাগ সবক্ষেত্রে এখনও নতুন আইনের প্রয়োগ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মিলাদুল হুদা জানান, মহাসড়কে অবৈধ থ্রি হুইলার চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। নতুন সড়ক আইনের কিছু নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। কিন্ত সেগুলো প্রয়োগে এখনও চুড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। নতুন আইনের চুড়ান্ত নির্দেশনা আসলেই সেটি প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক-মহাসড়কগুলো নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১