আপডেট : ২৭ November ২০১৯
গুলশানে আলোচিত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায় আজ। ভয়ংকর সেই রাতের কথা এখনো ভুলতে পারেনি মানুষ। নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ৪ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বেসরকারি সংস্থাসহ সফররত বিদেশি নাগরিকরা ঢাকা ছাড়েন। বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ সফরে সতর্কতা জারি করে। অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণ দিতে হয়। ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের এ রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে আজ। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে করে ইতোমধ্যে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ সদর দপ্তারসহ পুলিশের সব ইউনিট সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সারা দেশে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। জানতে চাইলে এলিট ফোর্স ব্যারের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গিবাদ দমনে র্যাবের মনোযোগ এক মুহূর্তের জন্য সরে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শূন্য সহিষ্ণুতা রয়েছে। তার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি দমনে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানের নির্মম ঘটনার পর প্রায় ৮০৯ জন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। আমরা সব সময় কাজ করব। কারণ জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। তিনি বলেন, দমনের সঙ্গে আমরা সচেতনতা তৈরি করে যাচ্ছি। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলছে র্যাবের। অ্যাপস করা হয়েছে। নজির হিসেবে ৮ জন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। আজ রায়ের ঘটনা একটি মাইলফলক হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে এমনটি চিন্তাতেও ছিল না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ঘটেছে। এখনো তারা তৎপর। সর্বশেষ গত সোমবার জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা পাহাড়ে জমি লিজ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। তবে কেবল গ্রেপ্তার নয়, আইনের আওতায় আসার পর বিশেষ করে কারাবন্দি দাগি জঙ্গিদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে আইনি দুবর্লতায় অনেক জঙ্গি কারাগার থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের অভিযোগ রয়েছে। তারা কারাগার থেকে বের হয়ে নতুন করে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদ নিপাত করে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের জন্য হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা। তারা বলছেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। এই রায় আমাদের শুধু পরিবারের চাওয়া নয়, সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এর গুরুত্ব রয়েছে। বেনজীর আহমেদ বলেন, রায় ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে অতর্কিতে হামলা করে পাঁচ জঙ্গি। তারা ভেতরে থাকা সবাইকে জিম্মি করে। পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানের সময় জঙ্গি হামলায় নিহত হন ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালেহ উদ্দিন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বির, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল নামে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। পরে হলি আর্টিজান থেকে ১৭ বিদেশি ও চার বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। ঘটনার দুই দিন পর গুলশান থানার এসআই উত্তম কুমার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দুই বছর ২২ দিন তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ জুলাই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। জানা গেছে, ঘটনার পর ঢাকা ছাড়েন অনেক বিদেশি নাগরিক। এতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন থমকে যায়। কমে যায় বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের অর্থ ছাড়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত বিদেশি পরামর্শক ঢাকা চলে আসেন। তবে বাংলাদেশের জঙ্গিবিরোধী উদ্যোগ বিভিন্ন সময় প্রশংসা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন ও হালনাগাদ করা হয়েছে। একাধিক আইনে জঙ্গিবাদ দমন করার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ। সর্বশেষ সরকার একটি বিশেষ কাউন্সিল করেছেন ঢাকা মহানগরের সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াকে প্রধান করে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১