আপডেট : ৩০ October ২০১৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারনের দাবিতে আন্দোলনকারীদের টানা তৃতীয় দিনের ধর্মঘটে আন্দোলন তুঙ্গে। বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভ মিছিলে সরগরম হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুরাতন কলা ভবনের সামনে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীর ওপর সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবালের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদে বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে কর্তব্যরত অবস্থায় আন্দোলনকারীদের দ্বারা এ সহকারী প্রক্টর আহত হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। মারধরের শিকার জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মহিবুর রৌফ শৈবালের ‘নেতৃত্বে’ আমাকে মারধর করা হয়েছে। অযৌক্তিকভঅবে মারধরের বিচার চাই আমি। মারধরের বিষয়ে সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো নিজে আহত হওয়ার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করি। আন্দোলনকারীদের গেট থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। এ সময় ওদের (আন্দোলনকারী) একজন আমাকে লাথি মারলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের শিক্ষক রায়হান রাইন বলেন, মহিবুর রউফ শৈবাল যে কাজটি করেছে তা পুরোপুরি অশিক্ষকসুলভ আচরণ। ধর্মঘট করা যেমন একজন আন্দোলনকারীর অধিকার তেমনি করে একজন শিক্ষক ও ক্লাস পরীক্ষা নিতেই পারে। তবে কেউ তার পথ অবরোধ করলে তাকে তিনি টানা হেঁচড়া করতে পারেন না। এই ঘটনার বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ভিডিওতে আমি দেখিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে জয় মাটিতে পড়ে যায়। শৈবাল স্যার তাকে হাত ধরে টেনে তুলেছেন। এদিকে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার অভিযোগে ও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এসময় নেতাকর্মীদের ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন, বিচার চাই, বিচার চাই, শিক্ষা আমরার অধিকার, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ কেন এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এদিকে, সকালে সাড়ে ৮টা থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের প্রবেশ ফটক আটকে অবস্থান নেন। অবরোধের কারণে উপাচার্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন নি কোন কর্মকর্তা। তাই এক রকম অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। অন্যদিকে ধর্মঘটের কারণে অধিকাংশ বিভাগে পূর্ব নির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বিভিন্ন বিভাগে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১