আপডেট : ২৫ October ২০১৯
গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক লীগ নেতা ওমর ফারুককে দুই হাত কেটে হত্যার ঘটনার এক বছর আজ। ওই দিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে বাড়ি থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে শ্রমিকলীগ নেতা ওমর ফারুক বের হন।পথে ওমর ফারুকে প্রকাশ্যে দিনেপদুপুরে কুপিয়ে দুই হাত বিছিন্ন করে হত্যা করে সন্ত্রাসী সুমন বাহিনী। বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামি সুমন এখনো অধরা রয়েছে। এ নিয়ে নিহত ফারুকের পরিবারে রয়েছে বিচারহীনতার শঙ্কায়। এক বছরে প্রধান আসামী সুমন গ্রেপ্তার না হওয়ার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ঘটনার কিছু দিন পর থেকেই পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তারে অসহযোগিতা শুরু করে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। ওই দিন উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওমর ফারুককে সড়কের ওপর ফেলে বুকে চেপে বসে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে সন্ত্রাসীরা। পরে রাস্তায় ফারুককে মুমূর্ষ অবস্থা ফেলে বিদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে উল্লাস করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সন্ত্রাসী সুমন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। নিহত ওমর ফারুক কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের (কড়ইতলা) রাজমিস্ত্রী হাফিজুল ইসলামের ছেলে। সে পৌর শ্রমিকলীরে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে চাকরি করতেন ওমর ফারুক। স্থানীয়রা জানান, গত বছর ২৫ অক্টোবার সকালে ব্যাটারি চালিত একটি অটোরিকসা দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিল ওমর ফারুক। পরে অটোরিকশাটি মাওনা মসজিদ মোড় এলাকায় আসলে একটি পিকআপ ভর্তি ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী অটোর সামনে গতি রোধ করে তাকে নামিয়ে জোর করে পিকআপে তুলে। পরে বেধড়ক মারতে মারতে কড়ইতলীর দিকে নিয়ে যায়। এক সময় কেওয়া পশ্চিম খন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফারুকের দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে রাস্তার ওপর রেখে বিদর্পে চলে যায় সন্ত্রসীরা। এ সময় রুবেল নামে এক পথচারীকেও কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় অনেকে দাড়িয়ে এ দৃশ্য দেখলেও এগিয়ে আসেনি ভয়ে। নিহতের স্বজনরা জানান, স্থানীয় বাবুল, সুমন, সোহেলসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্ধ চলছিল ফারুকের। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার হত্যার হুমকিও দেয় ফারুককে। স্বজনরা আরো জানায়, এক সময় সুমনের সঙ্গেই অবাধ চলাফেরা ছিল ফারুকের। পরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে তারা আলাদা হয়ে যায়। সেই থেকেই তাদের মাঝে ক্ষমতার লড়াই চলছিল। শ্রীপুর আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. জোবায়ের হোসেন জানান, নিহত ওমর ফারুক পৌর শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ হত্যার প্রতিবাদ করেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলো চাঞ্চল্যকর এমন একটি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী এখানো গ্রেপ্তার হলো না। বছর পেরিয়ে গেলেও অধরাই থাকল ওমর ফারুক হত্যার প্রধান আসামী। নিহত ফারুকের বাবা মা আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। অথচ এক বছরে মামলার প্রধান আসামী এখানো গ্রেপ্তার হয়নি। আইনশৃঙ্খলার বাহিনী তৎপরতা নিয়েও তারা অসস্তুষ্টি প্রকাশ করেন। মামলার তৎকালীন তদন্ত অফিসার শ্রীপুর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওমর ফারুক চাঞ্চল্যকর হত্যার এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব এখন ডিবিতে। গাজীপুর জেলা ডিবির ওসি (গোয়েন্দা) রাজিব কুমার দাস বলেন, অল্প কিছু দিন হলো আমি এ পুলিশ স্টেশনে যোগদান করেছি। আমি খোঁজ নিয়ে ভালো বলতে পারব। তবে চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১