আপডেট : ২৪ October ২০১৯
লালামনিহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নে ‘ফ্রেন্ডশিপ সোস্যাল ওয়ার্ক’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা নিজ উদ্যোগে ৪শত ফিট বাঁশের সাঁকো তৈরী করছেন। স্থানীয় ওই সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সাঁকোটি নির্মাণ হলে তিন গ্রামের ৬হাজার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমবে। সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য নুরনবী জানান, ওই ব্রীজটি ২০১৫ সালের বন্যায় ভেঙ্গে যায়। ফলে সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের সাথে গড্ডিমারী ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের বন্যায় ভাঙ্গা ব্রীজটির দুই পাশে প্রায় সাড়ে ৩শত ফিট রাস্তাও ভেঙ্গে যায়। ফলে মিলনবাজার আবুল হোসেন আহম্মেদ মাদ্রাসা, গড্ডিমারী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মধ্য গড্ডিমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ৩গ্রামের হাজার হাজার মানুষ গড্ডিমারী মেডিকেল মোড় হয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়। সংগঠনের সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, ভাঙ্গা ব্রীজ ও রাস্তায় একটি বাঁেশর সাঁকো নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও গত ৪বছরেও তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আমরা নিজ উদ্যোগে ৪শত ফিট বাঁেশর সাঁকো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করি। সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে ইতোমধ্যে সাড়ে ৩শতাধিক বাঁশ সংগ্রহ করেছে। ওই বাঁশ দিয়ে শুরু করা হয়েছে সাঁকো নির্মাণের কাজ। সাঁকোটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে এবং আরো দুই শতাধিক বাঁশের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সাঁকো নির্মাণের জন্য দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন। তাই শ্রমিক নিতে আর্থিক সংকটও দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার জাবেদ আলী, রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রীজ ও রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের গড্ডিমারী মেডিকেল মোড় ঘুরে বড়খাতা হাট ও মিলনবাজার যেতে হয়। সাঁকোটি নির্মাণ হলে দুরত্ব কমে যাবে এবং সময়ও কম লাগবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রোকসানা আক্তার ও সফিকুল ইসলাম জানান, ব্রীজ ও রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে গত ৪বছর ধরে ৫কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে মাদ্রাসায় যাচ্ছি। এলাকার বড় ভাইরা আমাদের কষ্ট দেখে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করছেন। অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, এলাকার লোকজনের দুর্ভোগ দেখে ফ্রেন্ডশিপ সোস্যাল ওয়ার্ক’র সদস্যরা ৪শত ফিট বাঁেশর সাঁকো নির্মাণ করছেন। এ সাঁকো নির্মাণের ফলে ওই এলাকার প্রায় ৬ হাজার লোকজনের চলাচলের দুভোর্গ কমে যাবে। তাদের এ কাজে অনেকেই সহযোগিতা করছেন। ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, ওই স্থানে ব্রীজ নির্মানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আপাতত স্থানীয় ছেলেরা একটি বাঁশের সাঁেকা তৈরী করেছেন যা প্রশংসিত। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল আমিন জানান, প্রতি বছর বন্যায় তিস্তা নদী তীরবর্তী অনেক ব্রীজ ও রাস্তা ভেঙ্গে যায়। স্থানীয় ভাবে এলাকার লোকজন বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তাদের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১