বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৩ September ২০১৯

গেস্টরুমে বসা নিয়ে রাবি ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৪


আবাসিক হলের অতিথি কক্ষে বসা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতরা হলেন- দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী একরাম হোসেন রিমন, মারুফ পারভেজ, জসিম উদ্দিন, ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের লিমন। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী। আর মারধরকারীরা রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী বলে জানা গেছে।

হল সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লিমন হোসেন তার দুই বান্ধবীকে নিয়ে হলের গেস্ট রুমে আসেন। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম তার এক বন্ধুকে নিয়ে বসে ছিলেন। এসময় লিমন তাকে গেস্ট রুমে জায়গা করে দিতে বললে কামরুল লিমনকে মারধর করে। পরে লিমন এ ঘটনার তার কয়েকজন বন্ধুকে ডেকে কামরুলের কক্ষে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে জানালা ভাঙচুর করে। এরপরে হলের ফটকের সামনে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারীরা সাকিবুল হাসানের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সম্মেলনের পর থেকেই আমার সঙ্গে যারা চলাফেরা করত, তাদেরকে নানা ধরনের অত্যাচারের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনকি আড়াই বছর ধরে আমাদেরকে কোনো পদ দেয়নি। বরং আমার কর্মীদেরকে মারধর করেছে। তারা হলে থেকে যে ঠিকমতো পড়ালেখা চালিয়ে যাবে সেই অবস্থাও নেই।

বাকি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, আরিফ বিন জহির, মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক, ছাত্রলীগ কর্মী সুব্রত মারামারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে আজকের ঘটনাটি অবহিত করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, আমরা মারামারির ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। এখানে কোন দল বা পক্ষের কাউকে মারধর করা হয়নি। পরিস্থিতি এখন শান্ত।

মাদারবখশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, আমি আজকে ঢাকায় যাচ্ছি। যখন সিরাজগঞ্জে পৌঁছালাম, তখন জানতে পারলাম দুজন ছেলে মারামারি করেছে। আর পরে এটা নিয়ে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়। পরে আমি প্রক্টর ও হলের অন্যদের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে বলি। ওই দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঢাকা থেকে ফিরে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে হল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, অতিথি কক্ষে বসাবসি নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। অন্য কোনো কারণ ছিল না। এটার সমাধান করার চেষ্টা চলছে। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। কেউ-ই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিরি সৃষ্টি করতে পারবে না।

আহতদের সম্পর্কে তিনি বলেন, চারজন আহত হয়েছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১