বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৬ August ২০১৯

অধিকাংশ জিডির তদন্ত হয় না


পুলিশকে আরো গণমূখী করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। থানায় মামলা জিডি করতে এখন আর বেগ পেতে হয় না। তবে হয় না জিডির তদন্ত। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরাই জানেন না তিনি জিডির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। ফলে আবেদনকারি বারবার তাগাদা দিয়েও পাচ্ছেন না পুলিশী সেবা। আবার কোনো জিডির ক্ষেত্রে আবেদনকারি ও আসামী উভয়েরে কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় ঢাকা রেঞ্জের ৯৬ থানায় জিডি করতে আসা মানুষদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ মার্চ রাজধানীর সেগুন বাগিচা এলাকা থেকে মোবাইল হারান জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী। শাহবাগ থানায় জিডি করার পর তদন্ত কর্মকর্তার পিছনে ঘুরছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে দ্রুত শনাক্ত হবে, এই হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করেন বলে সময় পার করছেন।

গত ২০ মার্চ ডিএমপির তেজগাঁও থানায় মোবাইল হারানোর বিষয়ে জিডি করেন এক ভুক্তভোগী। ওই জিডির তদন্তের দাযিত্ব পান থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান। ঘটনার পাঁচ মাস পর ওই কর্মকর্তাকে জিডির তদন্তে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ওই জিডির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না তাই জানেন না। পরে জিডির নম্বর তাকে এসএমএস করতে বলেন। এতদিন পর জিডি নম্বর চাওয়ায় ওই ভুক্তভোগী হতাশ হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে আর এসএমএস দেননি।

গত ২৪ মে শেরে বাংলা নগর থানায় মোবাইল ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় অভিযোগ করেন মেহেদী হাসান নামের এক প্রকৌশলী। চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন এক সপ্তাহ ধরে সচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য আসামিকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ওই মোবাইল থেকে জিডি আবেদনকারির কাছে টাকাও দাবি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, হত্যা, ধর্ষণ ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামী দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়ার নজির রয়েছে পুলিশে। কিন্ত তার হরানো মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ গত ২ আগস্ট তেজগাঁও থানার পাশেই একটি সিএনজিতে মোবাইল রেখে দোকানে পান কিনতে যান মামুন হাসান নামের এক ব্যবসায়ী। কিছুক্ষণ পর ফিরে দেখেন সিএনজিওয়ালা উধাও। এ বিষয়ে তিনি থানায় জিডি করেছেন। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। চালু করলেই ধরা পড়ে যাবে। মামুন এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশকেও অবহিত করেছেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও তার মুঠোফোনটির সন্ধান পায়নি পুলিশ।

এদিকে ৬ মাস আগে মোবাইল হারিয়ে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা স্বপ্না ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন। চুরি যাওয়া মোবাইলটি ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি চায়ের দোকানদার বাবু জনৈক ব্যক্তির থেকে মোবাইলটি কেনেন। গত দুদিন আগে ধানমন্ডি থানার এসআই ফেরদৌস মোবাইল ট্রাকিং এর মাধ্যমে চা দোকানদারকে শনাক্ত করেন ও তাকে দ্রুত থানায় আসতে বলেন। দোকানদার বাবু অভিযোগ করেন, ফেরদৌস স্যারকে ১০ হাজার টাকা না দেয়া হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। পরে ৫ হাজার টাকায় বিষয়টি দফা হয়।

এদিকে খাদিজা স্বপ্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইলটি পাওয়ার কথা তাকে জানানো হয়নি। আমি থানায় যোগাযোগ করলে আমার মোবাইলটি যশোর বেনাপোল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে এসআই ফেরদৌস জানান। এ সময় আমার থেকে টাকা দাবি করায় আমি মোবাইল না নিয়ে চলে আসি।

ডিএমপির ডিসি পদমর্যাদার কয়েক কর্মকর্তা জানান, জিডির তদন্ত হয় না তা ঠিক নয়। একসঙ্গে অনেক জিডি হলে কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে সকল জিডিরই তদন্ত করা হয়। অনেক সময় হারানো মোবাইল ফোনের লোকেশন একেক স্থানে পাওয়া যায়। আবার ফোন বন্ধ থাকে। এছাড়াও মোবাইলের আইএমইআই নম্বর বদলে ফেললে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নতুন চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসলে পুরনো ঘটনা তদন্তে কিছুটা দেরি হতে পারে।

ঢাকা রেঞ্জ সূত্র জানায়, নবনিযুক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই ঢাকা রেঞ্জ বদলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ১৩ জেলার ৯৬ থানাকে ইতিমধ্যে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিদিন ডিআইজি অফিস থেকে জেলা পুলিশ সুপারদের মাধ্যমে থানাগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। ওয়ারেন্ট তামিল, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে নানামূখী অভিযান পরিচালনা করছে। যে সকল থানার পারফর্মেন্স ভাল তাদেরকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও থানার উিউটি অফিসারের কাছে সার্বক্ষণিক ফুল ও চকলেট রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানায় আগত আইনগত সাহায্য প্রার্থীদের হাসি মুখে সাদর সম্ভাষন জানিয়ে ফুল আর চকলেট দিয়ে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাকের মোহাম্দি জুবায়ের বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ডিআইজি হাবিবুর রহমান স্যার যোগদানের পর থেকে রেঞ্জের সব জেলা ও থানা পুলিশের কর্মকান্ডে গতি এসেছে। উনি কাজ আদায়ের প্রশ্নে কঠোর। আবার যারা কাজ করেন তাদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করেন। এতে অফিসারদের মধ্যে কাজের প্রতি দরদ বেড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, সব জিডি তদন্ত করার প্রথমে সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত হচ্ছে প্রয়োজনও নেই। কারণ প্রতিদিন গড়ে থানায় শতাধিক জিডি হয়। থানাগুলোতে অফিসার থাকে ১৫ থেকে ২০ জন। দ্বিতীয়ত অনেক জিডি আছে যেগুলো বাদী পরবর্তী সময়ে আইনগত সুবিধা পাওয়ার জন্য করে থাকেন। সেসব ক্ষেত্রে তদন্তের দরকার পড়ে না।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১