বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০২ August ২০১৯

চাপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী


ডেঙ্গু নিয়ে চলমান সংকটে ব্যাপক প্রশ্নের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। যদিও সমালোচনা সামাল দিতে বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন তিনি। সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সতর্কও করা হয়েছে মন্ত্রীকে। দায়িত্ব পালনে আরো সাবধান হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে তাকে। পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে তিনটি হাসপাতাল। 

তবে চাপের মুখে দেশে ফিরে এলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মন্ত্রীকে। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু রোগী বেড়ে গেলে যাতে সামাল দেওয়া যায়, সেজন্য ঢাকায় তিনটি সরকারি হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্যাথলজি পরীক্ষার কিট ও রিএজেন্ট আমদানি করা হচ্ছে। এদিকে ডেঙ্গু রোগের ব্যাপকতা আসন্ন ঈদে বেড়ে যেতে পারে বলেও স্বীকার করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কোরবানির ঈদে ঢাকার মানুষ গ্রামে গেলে ডেঙ্গু আরো ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তা মোকাবেলার পরিকল্পনাও আগে থেকে করার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) ডেঙ্গুবিষয়ক এক সেমিনারে সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে জাহিদ মালেক বলেন, সারা দেশে সুন্দরভাবেই সব ম্যানেজ করা হচ্ছে। সবাই মিলে কাজ করলে ক্রাইসিস মোকাবেলা করা যায়। ডেঙ্গুর এই প্রকোপের মধ্যে ছুটি নিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গত বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, আগামীকাল (গতকাল বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টায় ডেঙ্গু নিয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন মন্ত্রী। তবে বৃহস্পতিবার সকালে জানানো হয়, মন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাঈনুল ইসলাম প্রধান সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সটি স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রী রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আরো কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। তারপর সংবাদ সম্মেলনের তারিখ জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে মিটফোর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এক শ শয্যার একটি নতুন ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটা দেশের একটা বড় সমস্যা, তাই ছুটি বাতিল। এ সময় মন্ত্রী দাবি করেন, কেউ চিকিৎসা পায়নি বা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গেছে; এমন কেউ বলতে পারবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে সেপ্টেম্বর মাসে। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনো সেভাবে রোগী যায় না। সেজন্য বেডগুলো অধিকাংশই খালি পড়ে থাকে। তাই সরকার এই হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ব্যবহার করতে চায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ওই হাসপাতালগুলো রেডি করার নির্দেশ দিয়েছি আমরা। বার্ন ইনস্টিটিউটে এক হাজার বেড রেডি হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের যে হাসপাতালগুলোতে রোগী নিচ্ছে সেখানে যদি জায়গা না হয়, তাহলে আমরা ওই তিনটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে যাব।

চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সত্যিই গর্বিত, আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্য যারা চিকিৎসাসেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত, তারা সবাই কঠোর পরিশ্রম করছেন। এ জন্য আমার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, আশা করি, অল্প দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বদলে যাবে, আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক ভাইদেরও সহযোগিতা দরকার। সাংবাদিক ভাইদের দেখতে হবে, এখানে চিকিৎসা হচ্ছে কি না, দেখতে হবে রোগী ফেরত যাচ্ছে কি না, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছে কি না, বেড পাচ্ছে কি না। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, কীভাবে রোগীদের সেবা এবং সারা দেশে কীভাবে এই ভয়াবহ অবস্থা সামাল দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়গুলো আপনারা তুলে ধরবেন। আপনাদের কাছে আমরা এটি আশা করি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হলে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু এ সময় সাংবাদিকদের বাধা দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর একটি বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের ভেতরে আসার সুযোগ দেন মন্ত্রী। বক্তব্য শেষে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে চাইলে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন তিনি।

দুপুরের দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। ঢাকার দুই মেয়র, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমও) মহাসচিব ইকবাল আর্সলান, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, টেকনিক্যাল বিষয়। এটা মন্ত্রীর জবাব দেওয়ার বিষয় না। এটি জটিল বিষয়।

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই ব্যক্তিগত ভ্রমণে গত ২৭ জুলাই মালয়েশিয়া যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ৪ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে বুধবার রাত ১টার দিকে দেশে ফেরেন তিনি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১