বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ৩০ July ২০১৯

ট্রলারের শব্দ শুনেই শতশত দুর্গত মানুষ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের রাখলগাছি চরের অসহায় মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ তেখে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ছবিটি আজ মাঙ্গলবার দুপুরে তোলা ছবি : বাংলাদেশেল খবর


‘ঘরে চাইল-ডাইল নাই। কামকাইজ না থাহোনে বাড়ির ব্যাটাছেলেরাও ঘরে বইসা থাহে। তাই টলারের ভটভট আউজ পাইয়া দৌড়াইয়া আইছি রিলিপ পাওয়ার আশায়।’ কথাগুলো বলছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা নদীর দুর্গম রাখালগাছি চরের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে দূর্গম বেতকা-রাখালগাছি চরে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণের ট্রলার পৌঁছালে সেখানে মুহুর্তের মধ্যে হাজির হন শতাধিক অসহায় মানুষ। ত্রাণ হিসেবে চাল, ডাল, চিরা, চিনি, তেল, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী হাতে পেয়ে তাদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে অন্যরকম এক আনন্দ।

ত্রাণ সমগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মন্ডল প্রমুখ।

এর আগে কোন ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বেতকা গ্রামের আ. লতিফ ফকীর (৬০) জানান, বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেলাম বেশ কয়েকদিন। এখনও পানি নামেনি। কিন্তু এর আগে কেউ তাদের জন্য কোন সহযোগিতা নিয়ে আসেনি। আজই প্রথম কেউ আমাগো এই চাল-ডাল দিয়া সাহায্য করলো।

জানা যায়, গত কয়েকদিন পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩ হাজার মানুষ পানি বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে বর্তমানে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও পানি পুরোপুরি নেমে যায়নি। এ সকল এলাকার মানুষের জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়নি। এমনিতেই নদী ভাঙনের ফলে এ উপজেলার বেশীর ভাগ কৃষক অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছে। তারপরও বন্যার ক্ষতি তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে এসেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বন্যায় দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া, উজানচর ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়ে পাট, আউশ, রোপা আমনের বীজতলা, বোনা আমন ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। সূত্রমতে বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকার ফসল সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে গেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, সরেজমিন গিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত ২শ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসমগ্রী বিতরন করা হয়েছে। এরপর দ্রুতই দুর্গত এলাকার প্রতিটি পরিবারের মধ্যে চাল বিতরন করা হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১