আপডেট : ২৯ July ২০১৯
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন. নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। তা না হলে তাদের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান করা উচিত। তুরস্ক সফররত মাহাথির গত শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যদিও মালয়েশিয়া সাধারণত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কথা বলে না। কিন্তু এখানে বিষয়টি ভিন্ন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড বা গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা গণহত্যা এবং মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে। সুতরাং রোহিঙ্গারাও যে মিয়ানমারের নাগরিক তার স্বীকৃতি দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা দরকার। অনেকগুলো আলাদা রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল মিয়ানমার। ব্রিটিশরা মিয়ানমারকে এক রাষ্ট্র হিসেবে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠী বার্মা নামক রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখন অবশ্যই তাদেরকে নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে অথবা নিজেদের রাষ্ট্র গঠনের জন্য তাদের আলাদা অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া উচিত। রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও বিতাড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আদালত কেবল তখনই কাজ করতে পারে যখন কোনো বিষয়ে বিবদমান পক্ষ আদালতের অনুসন্ধানগুলো মেনে নিতে রাজি হয়। আইসিজে একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সে সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করবে না। সুতরাং আইসিজের পদ্ধতিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমাদের মিয়ানমার সরকারের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। ১৯৯৭ সালের ১৭ জুলাই রোম সংবিধি গৃহীত হওয়ার পর ১২০টি দেশের স্বীকৃতি নিয়ে ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু করে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো ঘটনায় দোষীদের অভিযুক্ত করে এই আদালত। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র হলেও মিয়ানমার সদস্য নয়। তবে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সদস্য রাষ্ট্র না হলেও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ঘটনার বিচারে কোনো সমস্যা হবে না। রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ রাখাইন রাজ্যে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের কয়েকটি সীমানাচৌকিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার পর রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নৃশংতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। যদিও আগে থেকেই প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, যারা বিভিন্ন সময় নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসে। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডেও বেশ কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকট, চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১