বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১০ June ২০১৯

ট্রাভেল পাস যাচাই করে দেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যারা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরে আসছেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যারা ট্রাভেল পাস নিয়ে আসছেন, তারা কোনো জঙ্গি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, এটা নিশ্চিত হতে এই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

জঙ্গিবাদে সম্পৃক্তদের কেউ কেউ দেশে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে, বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়ায় সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের তথ্য দিচ্ছে যে, যারা বিভিন্ন দেশে দুষ্কর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সিরিয়ায় বা ইরাকে যারা (আইএসের হয়ে) যুদ্ধ করেছে, এ ধরনের লোক আমাদের দেশে চলে আসতে পারে। তাই বিভিন্ন দেশ থেকে যারা ট্রাভেল পাস নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসছেন তাদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাকি অন্য দেশের, সেটা নিশ্চিত হতে একটু কড়াকড়ি করতে হচ্ছে। তাই সঙ্গত কারণেই ট্রাভেল পাসধারীদের একটু ঝামেলা হচ্ছে।

পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হায়রানি করে, সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এজন্য আমরা পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছি। কোথাও কোনো দুর্বলতা থাকলে সেগুলো সারিয়ে তুলতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলট ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন পার হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার জন্য কার কার গাফিলতি রয়েছে খুঁজে বের করা হবে। আমার মনে হয় আরো একটু কেয়ারফুল হলে এ ঘটনাটা ঘটত না। তদন্ত কমিটির মূল্যায়নের পরে আমরা পুরো বিষয়টি বুঝতে পারব। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। ইমিগ্রেশন কার্যক্রমটা বহুদিন থেকেই পুলিশের বিশেষ শাখা করে থাকে। তবে এ কাজটা ইমিগ্রেশন বিভাগ দিয়ে করা যায় কি না সে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, বিদেশে ইমিগ্রেশন অন্যভাবে হয়। তাদের পাসপোর্টে সিল দেওয়া হয় না। একটা ডিক্লারেশন স্লিপ তাদের দেওয়া হয়। স্লিপটা পাইলটরা ইমিগ্রেশনে জমা দেন। এমনকি যেখানে যান সেখানেও তারা শুধু স্লিপটা জমা দেন। ওই স্লিপেই তাদের সব ধরনের তথ্য থাকে। তারপরও পাইলটদের সঙ্গে পাসপোর্ট রাখা দরকার হয়। কারণ আইন অনুযায়ী, পাসপোর্টটা যখন যেখানে দেখতে চাওয়া হবে, তখনই সেটা দেখাতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পাইলট জানিয়েছেন তিনি ভুলক্রমে পাসপোর্টটা নিয়ে যেতে পারেননি। সেজন্য ঘটনাটি ঘটেছে। এখানে কার কার দুর্বলতা রয়েছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে সবার দৃষ্টি গেছে, ইমিগ্রেশন কীভাবে পার হলো, সে বিষয়ে। আমরা জেনেছি ইমিগ্রেশনে পাইলট সঠিকভাবে স্লিপটি জমা দিয়েছেন। তার ফিঙ্গার প্রিন্টও নেওয়া হয়েছিল সঠিকভাবে। কিন্তু ইমিগ্রেশনে যে কর্মকর্তা কাজ করছিলেন, তার উচিত ছিল পাসপোর্টটা দেখা। কিন্তু তিনি তা না করে গাফিলতি করেছেন। এ কারণে তাকে প্রথমেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার মানুষ স্বস্তিতে ঈদ কাটিয়েছে। দু-একটা সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে ধন্যবাদ।

এদিকে ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান হত্যাকাণ্ডে সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে একটা মামলা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে) হয়েছে। সে যতটুকু অপরাধ করেছে সে অনুযায়ী তার বিভাগ এবং আদালত ব্যবস্থা নেবে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। আমরা মনে করি কেউ আইনের বাইরে নয়। সে ওসি হোক আর যে কোনো ধরনের কর্মকর্তা হোক। এমনকি জনপ্রতিনিধি হোক, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। তার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। চার্জশিটেও তার নাম এসেছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১