বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৩ March ২০১৯

মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন্ত অবয়ব 'জয়-বাংলা' ভাস্কর্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জয়-বাংলা' ভাস্কর্য


বিশেষ কোন স্মৃতিকে সংরক্ষণের জন্য আমরা কতো কিছুই না করি। তবে সেটি যদি হয় আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা দেশের জন্মলগ্নের কোন ঘটনাকে ধারণ, যেটাতে জড়িয়ে থাকে আত্মত্যাগ আর চেতনা বিকাশের মহিমা।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মারক হিসেবে নির্মাণ করা হয় ভাস্কর্য। কোথাও ম্যুরাল, কিংবা কোথাও প্রতিকৃতির মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা হয় সংগ্রামী এই ঐতিহ্যকে।
সবুজ অরণ্য আর পাহাড়ে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অবকাঠামোগত উন্নয়নের মোটেও কমতি নেই। কিন্তু ৫৩ বছর ধরে আক্ষেপ থেকেছে স্বাধীনতা সংগ্রামের কোন ভাস্কর্যের। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কেন্দ্রিক ২০১৬ সালের নভেম্বরে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ভাস্কর্য নির্মাণের দাবীতে সরব হয়।

'আমরা চবিয়ান’ শীর্ষক ব্যানারে ’৫২ থেকে ’৭১ সাল পর্যন্ত স্বাধিকার আদায় ও স্বাধীনতা সংগ্রামে গণমানুষের অংশগ্রহণের স্মৃতিস্বরূপ ক্যাম্পাসে ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি তোলেন তারা। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে উদ্যোগ নেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের অবয়ব নির্মাণের। চবি’র চারুকলা ইনিস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের ৪১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ মো. সোহরাব জাহানের হাতে তুলে দেয়া হয় এর গুরু দায়িত্ব। দীর্ঘ ১২ মাসের শ্রমে ২০১৮ সালের অক্টোবরে উন্মোচিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক জয়-বাংলা ভাস্কর্য।’

ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরের মধ্যবর্তী চৌরাস্তার মাঝখানে। লাইফ কাস্টিং মেথডে তৈরি ভাস্কর্যটি বাংলাদেশে প্রথম। যেখানে ধূসর রঙের আস্তরণে ব্যবহার করা হয়েছে মার্বেল ডাস্ট। ফলে রোদ বৃষ্টিতেও এ ভাস্কর্য মলিন হবে না। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের প্রত্যক্ষ ও সমান অংশগ্রহণ বুঝানো হয়েছে এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়িদের ভ’মিকা ও উপজাতি এক নারীর অবয়বে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ভাস্কর্যটি ২০ ফুট উচ্চতা এবং ১৮ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট। এর মধ্যে ওপরের স্তরে তিন মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট এবং নিচের স্তরে প্রতিটি মানব অবয়বের উচ্চতা সাড়ে ৫ থেকে ৬ ফুট। মোট ১৭ জন দু:সাহসীর প্রতিকৃত রয়েছে এ ভাস্কর্যে।

ভাস্কর্যটির নির্মাতা সৈয়দ সোহরাব জাহান বলেন, আমি চেষ্টা করেছি মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট দেশের অন্যান্য ভাস্কর্য সমূহ পর্যবেক্ষণ করে আরো কিভাবে জীবন্ত অবয়ব নির্মাণ করা যায়। তবে লক্ষ্য করে দেখেছি যে অন্যান্য ভাস্কর্যের মাঝে নারীদের সহযোদ্ধা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কাউকে সরাসরি যোদ্ধা হিসেবে দৃশ্যায়ন করা হয়নি। তাই এক্ষেত্রে নারীদের বীরত্বের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ভাস্কর্যের উপরের অংশে বীর যোদ্ধাদের আর নিম্নাংশে স্বাধীনতার চেতনা বহন করে চলা নানান জাতি ও মতের শিক্ষার্থীদের অবয়ব নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র, সেহেতু নানান মতের সম্মিলিত মানুষও জাতিগতভাবে একই চেতনা বহন করছে।

তিনি বলেন, আমি ভাস্কর্যে নিজের নাম থাকার ব্যাপারে কোনো দাবী জানাইনি। কারণ একজন শিল্পী তার সৃষ্টিকর্মের প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়ার মাধ্যমে তার স্বার্থকতা খুঁজে।

ভাস্কর্য সম্পর্কে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জানান, 'জয় বাংলা’ শুধুমাত্র একটি শ্লোগান নয় বরং অন্যায়-অবিচার ও জুলুুম-নির্যাতনকে পদদলিত করে বীর বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জনের একটি সাহসী উচ্চারণ। বিগত তিন বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যদের চির অম্লান করে রাখার প্রয়াসে বিভিন্ন স্থাপনা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নব নির্মিত ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্যটি বাঙালির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রজন্মের সন্তানদের স্বদেশপ্রেম, সাহস ও শক্তি যোগাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য সম্পৃক্ত বিস্তারিত তথ্যের প্রকাশনা তৈরি করা হবে। এতে ভাস্করের কর্ম প্রক্রিয়া, পরিচিতির বিষয়ও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হবে বলে সূত্রমতে জানা যায়।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১