আপডেট : ১৬ February ২০১৯
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গৃহহীন এক অসহায় পরিবারক জায়গা কিনে বাড়ী করে দিয়েছে উপজেলা যুবলীগ। গত বৃহস্পতিবার রাতে হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. মাসুদ ইকবাল ও যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন সোহেল ওই অসহায় শামসুন্নাহারের হাতে বাড়ীর দলিল হস্তান্তর করেন। এর আগে গত কয়েকমাস পূর্বে “পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে শামসুন্নাহার” শিরোনামে দৈনিক বাংলাদেশের খবরের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির দৃষ্টিগোচর হলে তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগকে ওই অসহায় মহিলার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রদাণ করেন। মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির পরামর্শে হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ শামসুন্নাহারকে ৫শতক জায়গা কিনে দেন। সে জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করে একটি পরিপূর্ণ বাড়ী করে দেন। সেখানে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্ধকৃত একটি ঘর প্রদান করেন। এর পাশা-পাশি যুবলীগের নেতৃবৃন্দ একটি কল, রান্নাঘর প্রদান করে বাড়ীতে বিভিন্ন প্রকার ফলদ বৃক্ষ লাগিয়ে দেন। উল্লেখ্য, শামসুন্নাহারের স্বামীর বাড়ী নীলফামারী জেলার করতোয়া নদীর তীরে ছিল। এক সময় তার সবই ছিল। গোলাভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, ছিল অনেক কৃষি জমি। ভয়াল করতোয়া তাদের সব কেড়ে নেয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করে। টনক নড়ে প্রশাসনেরও। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন জীবন যুদ্ধে পরাজিত এ পরিবারের প্রতি। তার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ তাকে একখন্ড ভূমি কিনে শামসুন্নাহারের নামে রেজি: দলিল করে দিয়েছে। শেখ হাসিনার উদ্যোগে ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় ঘর করে দিচ্ছে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৈশাখী বড়ূয়া। চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির প্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি পুরো তদারকি করছেন তিনি। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া ও উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম শামসুন্নাহারের বাড়ী পরিদর্শন করেন। চলতি মাসেই শামসুন্নাহার নতুন বাড়ীতে উঠবে বলে জানান বৈশাখী বড়ূয়া। শামসুন্নাহারের হাতে দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার চাঁদপুর প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ, যুবলীগ নেতা ইউছুফ প্রধানীয়া সমুন ও রাসেল প্রমূখ।
পরবর্তীতে তিনি ৩ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন বাপের দেশ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। বসতি গড়েন হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াপাড়ায় এক ঝুঁপড়ি ঘরে। বর্ষাকালে সাতার কেটে যেতে হতো রাস্তায়। তার স্কুল পড়ূয়া ছেলে মেয়েও একটি ড্রেস নিয়ে সাতার কেটে খাল পেরিয়ে পরবর্তীতে আরেকটি ড্রেস পড়ে যেতো হতো স্কুলে। শামসুন্নাহারের স্বামী মোজাম্মেল রিক্সা চালান চট্রগ্রামে। শামসুন্নাহারের জীবন যুদ্ধ নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার অনলাইনে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১