বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ December ২০১৮

চূড়ান্ত হচ্ছে একাদশ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া

# থাকবে পাঁচ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি # তথ্য চাওয়া হয়েছে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে পুরোদমে। আসনভিত্তিক প্রার্থী বাছাই, জোট-মহাজোটের সমীকরণ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্বাচনের মাঠ এখন বেশ সরব। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শরিকদের যথার্থ মূল্যায়ন শেষে সরকার গঠন করতে লাগবে আরো বেশ কয়েকদিন। নির্বাচনের অন্তত এক মাসের মাথায় বসে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন। সেই অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে সরগরম রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনও।

একাদশ জাতীয় সংসদের শুরুর অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির প্রথম ভাষণে গত পাঁচ বছরে সরকারের অর্জনের অতি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উল্লেখ থাকবে। তুলে ধরা হবে সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের বিষয়টিগুলোও। এজন্য প্রতি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও তার অধীনস্থ দফতর, অধিদফতর, পরিদফতর ও সংস্থার সাফল্যের তথ্য চেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ওই পত্রে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে উন্নয়নের তথ্য দ্রুত পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনে যে দলই জয়লাভ করুক রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তেমন নেই। এ হিসেবে রাষ্ট্রপতির লিখিত ভাষণও প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। তবে নির্বাচনের বাকি আছে আরো এক মাস। নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে। সেই সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ তৈরিতে তড়িঘড়ির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই মুহূর্তে দেশের মানুষের বড় চাওয়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের আওতায় প্রশাসনের বড় একটা অংশকেই এ কাজে নিয়োজিত রাখা উচিত। নতুন সরকার গঠন হলে রাষ্ট্রপতি অবশ্যই সংসদে ভাষণ দেবেন। লিখিত ভাষণের রেওয়াজ থাকায় এ বিষয়েও উদ্যোগের প্রয়োজন আছে। তবে বেশ তড়িঘড়ি করেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।  

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রিপোর্ট শাখার উপসচিব মুহাম্মদ আসাদুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে বলা হয়েছে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রতিবেদনটি তৈরি করতে হবে। প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ১ হাজার শব্দ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কোনো তথ্য বাদ পড়লে বা তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন হলে দ্রুত তা সংশোধনী আকারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ছাড়াও সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে চিঠিতে পাঠানো হয়েছে। কিছু দফতরে দেওয়া হয়েছে চিঠির অনুলিপি। চিঠির শুরুতেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭১ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। সে লক্ষ্যে ভাষণ প্রণয়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহায়তা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরকারের এক বছরের সাফল্যের প্রতিবেদন দিয়েছে। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে পাঁচ বছরের সাফল্যের তথ্য চেয়ে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি পেয়ে প্রায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজেদের উন্নয়নের তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন চলছে তথ্য সংশোধনের পালা। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পক্ষ থেকে ৯ অনুবিভাগে এ বিষয়ে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভাগের উপ-সচিব হাফিজুর রহমানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য তথ্য ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কোনো সংশোধনী থাকলে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তা দ্রুত পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

 

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১