নগরফুলদের পাশে ‘গো আপ ফাউন্ডেশন’

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

নগরফুলদের পাশে ‘গো আপ ফাউন্ডেশন’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৪ জুলাই, ২০২২

রুবেল মিয়া নাহিদ

মাহমুদা আক্তার সুমাইয়া। গো আপ ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি। পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া। গো আপ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই তার ভলান্টিয়ারিং কাজের যাত্রা শুরু।

গো আপ ফাউন্ডেশন যেকোনো ভালো কাজে এগিয়ে আসে। বর্তমানে তারা এসডিজির ১৭টি গোল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি হলো ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’। সংগঠনটির ৬টি স্কুল রয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন  জেলায় যেখানে তারা প্রায় ৪২০ এর অধিক পথশিশুদের পাঠদান কর্মসূচি পরিচালনা করে। প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী এই শিশুদের পাঠদানে সহযোগিতা করে। এর মধ্যে তাদের একটি স্কুল পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বাহাদুরশাহ পার্কে। সেখানে অবস্থানরত মাদকাসক্ত শিশুদের নিয়ে। এই মাদকাসক্ত শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুণী।

সুমাইয়া জানান, আমাদের সমাজের যেসব শিশুরা দিনের পর দিন মাদকে আসক্ত হচ্ছে তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের কথা কতজন ই বা চিন্তা করে। আমরা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের করি। তাদের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলি। আগে যেখানে তারা হাতে ব্লেড জাতীয় ধারালো বস্তু নিয়ে ঘুরাঘুরি করত সেখানে তারা আমাদের হাতে বই দেখলে ছুটে চলে আসে পড়াশুনার উদ্দেশ্যে। গোআপ  ফাউন্ডেশন দেশের সাধারণ শিশুদের মতো এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক কিছু শিক্ষা যেমন: সবাইকে সালাম দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালাগাল না করা, শিক্ষক ও বড়দের সম্মান দেয়া, ছোটদের স্নেহ করা, শৃঙ্খলা মেনে চলা ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় আমরা তাদের শেখাতে সক্ষম হয়েছি। তারা এখন নিজেরাই লেখাপড়া শিখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আমরা তাদেরকে প্রত্যেকটি ক্লাসে খাবার দিয়ে থাকি। বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম করিয়ে থাকি যাতে তারা শিক্ষাকে বোঝা হিসেবে না মনে করে। আমরা স্কুলের শিশু ও তাদের পরিবারকে গো আপ ফাউন্ডেশনের ‘আনন্দ স্টেশন’ ইভেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন আনন্দদায়ক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে থাকি। গো আপ ফাউন্ডেশন তাদেরকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শরীর চর্চা, কবিতা আবৃতি, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে আমাদের কাছে। গো আপ ফাউন্ডেশনের এই স্কুলটি  ‘আমাদের ইসকুল’ নামে পরিচিত। গো আপ ফাউন্ডেশন উদ্যোগ নিয়েছে এই মাদকাসক্ত শিশুদের সুন্দর জীবন গঠনে সহায়তা করার।

সুমাইয়া আরো জানান, আমরা এই ছয় মাসে এখনো পর্যন্ত মোট পাঁচজন শিশুকে মাদকাসক্ত জীবন থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি আমরা আমাদের চেষ্টায় আরো অনেক শিশুর ভবিষ্যত সুন্দর করতে পারব। শুধু তাই নয়, আমরা এই শিশুদেরকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বাছাই করেছি। তাদের পরিবারকে তাদের বাসস্থানের আশপাশে কর্মস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছি। যাতে করে তাদের পরিবার উৎসাহ পায়। তাদের শিশুদেরকে নিজেরাই পড়াশুনার দিকে ধাবিত করতে পারে। গো আপ ফাউন্ডেশনের বড় একটি উদ্দেশ্য এই পথশিশুদের মধ্য থেকেই দেশের সম্পদ বের করে আনা। কারণ এই শিশুরা দেশের আগামীদিনের ভবিষ্যত। আরো যেসব পরিবার তাদের অসচ্ছলতার কারণে তার শিশুদের অর্থ উপার্জন করতে রাস্তার মানুষের শরণাপন্ন করে। আমরা তাদের পরিবারদেরকেও কর্মস্থানের সুযোগ করে দিতে কাজ করে যাচ্ছি আমাদের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট ‘প্রজেক্ট স্বাধীনতা’-এর মাধ্যমে।

 স্বেচ্ছাসেবী সাদিক বলেন-এই শিশুদের দায়িত্ব নিতে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে যাবো যাতে এই সমাজে একজন সাধারণ শিশুর মতো তারাও স্বাধীনভবে বাঁচতে পারে।

নিজের দেশকে সুন্দর ও পথশিশু মুক্ত করতে এভাবেই তরুণ শিক্ষার্থীরা কাজ করছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমানে এসডিজি গোল ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮, ১৬ বাস্তবায়নে এবং এসব ক্ষেত্রে জনসচেতনতা তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে গো আপ ফাউন্ডেশন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads