ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ সন্দেহে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জাকি ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মী সন্দেহে ১৫/২০ জনের একটি দল তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সামনের পুকুর পাড় থেকে জাকিকে ধাওয়া দেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হলের সামনের ক্রিকেট মাঠ এলাকা থেকে মারধর করা হয়।
পরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক নাহিদ হাসান, তানভির মাহমুদ মন্ডল, ইয়াশিরুল কবির সৌরভ, রাকিবুল ইসলামসহ সমন্বয়ক প্যানেলের সদস্যরা আহত জাকিকে উদ্ধার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) ১১৬ নং কক্ষে নিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করান। পরে মোটরবাইকে করে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক সজীব ইসলাম ও পারভেজ হাসান চয়ন, আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জাকারিয়া, মুজাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন।
এদিকে এঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়ে অনেকে দাবি করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের একজন সক্রিয় আন্দোলনকারী। তিনি যশোর থেকে এ আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, "আমি ছাত্রলীগের কোনো পোস্টে ছিলাম না, বরং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম।"
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক তানভির মাহমুদ মন্ডল বলেন, "এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আমরা জাকিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি।"
এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, "আমি ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। ক্যাম্পাসে ফিরে পুরো বিষয়টি জানাব।"





